মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ অগ্ন্যাশয় হজমে সহায়তা ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে অপরিহার্য। তবে এই অঙ্গের ভেতরেও পাথর জমতে পারে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্যানক্রিয়াটোলিথিয়াসিস নামে পরিচিত। দীর্ঘস্থায়ী অগ্ন্যাশয় প্রদাহ বা ক্রনিক প্যানক্রিয়াটাইটিসের জটিল রূপ হিসেবে এটি দেখা দেয়।
এই রোগের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন ও ধূমপানের অভ্যাস। দীর্ঘমেয়াদি এসব অভ্যাসের কারণে অগ্ন্যাশয়ের নালি সংকুচিত হয়ে পড়ে এবং রসের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়। ফলে ক্যালসিয়াম কার্বনেট জমাট বেঁধে পাথরের সৃষ্টি হয়। জিনগত ত্রুটি, অপুষ্টি ও অটোইমিউন রোগের কারণেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
উপসর্গের মধ্যে তীব্র পেটব্যথা সাধারণত এপিগ্যাস্ট্রিক অঞ্চলে শুরু হয়ে পিঠ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। খাদ্য হজমে সমস্যার কারণে মলের সঙ্গে চর্বি বেরিয়ে যায় এবং রোগীর ওজন কমতে থাকে। অগ্ন্যাশয়ের আইলেট কোষ ধ্বংস হয়ে ডায়াবেটিস মেলিটাসও হতে পারে।
রোগ শনাক্ত করতে ইমেজিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে ক্যালসিফিকেশন ও নালির প্রসারণ স্পষ্ট দেখা যায়। এমআরআই বা এমআরসিপি পদ্ধতিতে নরম টিস্যুর চিত্র পাওয়া যায় এবং পাথরের সঠিক অবস্থান নির্ণয় সম্ভব হয়।
চিকিৎসার মূল লক্ষ্য পাথর অপসারণ ও ব্যথা হ্রাস। এক্সট্রাকর্পোরিয়াল শক ওয়েভ লিথোট্রিপসি (ইএসডব্লিউএল) শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে বড় পাথরকে ছোট টুকরায় ভেঙে ফেলে। এন্ডোস্কোপিক রেট্রোগ্রেড কোলানজিওপ্যানক্রিয়াটোগ্রাফি (ইআরসিপি)-র মাধ্যমে ছোট পাথর বাস্কেট বা বেলুনের সাহায্যে অপসারণ করা হয় এবং নালি খোলা রাখতে স্টেন্ট বসানো হয়। জটিল ক্ষেত্রে পুয়েস্টো পদ্ধতির মতো অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নালি খুলে পাথর বের করে দেওয়া হয়।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ডা. রতন লাল সাহা, কনসালটেন্ট জেনারেল ও ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ, মিরপুর ৬-এর আলোক হাসপাতালে এ বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করেন।



