ঢাকায় বসেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দশটি দেশের রন্ধনশৈলী ও সংস্কৃতি উপভোগের সুযোগ করে দিচ্ছে রেনেসন্স ঢাকা গুলশান হোটেল। ‘আসিয়ান উইকেন্ড থিম নাইট’ শিরোনামের এই উদ্যোগে স্থান পেয়েছে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া, লাওস, মিয়ানমার ও ব্রুনেইয়ের খাবার। গত ৯ জুলাই হোটেলটির ‘বাহার’ রেস্তোরাঁয় শুরু হওয়া এই উৎসব চলবে আগামী ১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত, যা কেবল বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে। জনপ্রতি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৯৫০ টাকা (নেট)। নির্বাচিত ব্যাংকের গ্রাহক, জিপি স্টার, বাংলালিংক অরেঞ্জ ক্লাব ও রবি এলিট সদস্যদের পাশাপাশি গ্রুপ বুকিংয়ে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত এইচ ই নগুয়েন মান কুয়ং, মালয়েশিয়া দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি হাজওয়ান ও থাইল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর ফাসিত চুধাবুদ্ধি আনুষ্ঠানিকভাবে এই খাদ্য আয়োজনের সূচনা করেন। হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আল-আমিন তাঁর বক্তব্যে জানান, রেনেসন্সের মূল দর্শন হলো ভ্রমণ, সংস্কৃতি ও মানুষের মধ্যে নতুন যোগসূত্র তৈরি করা; এই থিম নাইট সেই চিন্তারই বাস্তব প্রতিফলন।

শুধু খাবার নয়, পুরো পরিবেশই অতিথিদের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংস্কৃতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার জন্য সাজানো হয়েছে। রেস্তোরাঁয় আলোকসজ্জা, সঙ্গীত ও সাজসজ্জার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আসিয়ান অঞ্চলের চিরাচরিত আবহ। কর্মীরাও ঐতিহ্যবাহী মোটিফ অনুসরণ করে তৈরি পোশাকে অতিথিদের স্বাগত জানাচ্ছেন। মেনুতে স্থান পেয়েছে থাইল্যান্ডের টম ইয়াম, সিঙ্গাপুরের লাকসা, ইন্দোনেশিয়ার নাসি গোরেংসহ নানা দেশের জনপ্রিয় পদ। লাইভ কুকিং স্টেশন, সামুদ্রিক খাবারের গ্রিল, সুগন্ধি তরকারি, বিভিন্ন ধরনের নুডলস ও ভাত, স্ট্রিট ফুড ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় পানীয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষ আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে থাই গ্রিলড ফিস, গ্রিলড ডাক, ভিয়েতনামী বান ও ম্যাংগো–স্টিকি রাইস–কোকোনাট মিল্কের মতো ঐতিহ্যবাহী ডেজার্ট। দক্ষ শেফদের হাতে অতিথিদের সামনেই তৈরি হচ্ছে প্রতিটি পদ, যা তাজা উপকরণ ও স্বাদের নিখুঁত ভারসাম্য নিশ্চিত করছে।

প্রতিটি পদে ফুটে উঠেছে শত বছরের ইতিহাস, সমুদ্রপথের বাণিজ্য ও মসলাপথের আদান-প্রদানের প্রভাব। আয়োজকদের ভাষ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রন্ধনশৈলী ভারত, চীন, আরব ও ইউরোপীয় বণিকদের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ফসল। এর মাধ্যমেই তৈরি হয়েছে লেমনগ্রাস, নারকেল দুধ, তেঁতুল ও মরিচের অনন্য সমন্বয়। স্বাদে যেমন বৈচিত্র্য, তেমনি রয়েছে আঞ্চলিক ঐক্যের বন্ধন। নতুন স্বাদ অন্বেষণকারী ও ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এটি হতে পারে এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা—একটি ডাইনিং টেবিলই যেন খুলে দিতে পারে হাজার মাইল দূরের কোনো দেশের ইতিহাস, মানুষ ও জীবনধারার দরজা।