স্টেবলকয়েন প্রতিষ্ঠান সার্কেল সম্প্রতি প্রযুক্তি জায়ান্ট আইবিএমের কাছ থেকে প্রায় ১,০০০টি ব্লকচেইন পেটেন্ট কিনে নিয়েছে। সংস্থাটি আইবিএমকে ‘প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের পথিকৃৎ’ বলে আখ্যায়িত করেছে এবং দাবি করেছে যে এই নতুন মেধাসম্পদ ‘বৈশ্বিক, ইন্টারনেট-ভিত্তিক অর্থায়নের পরিকাঠামো অগ্রসর করবে’। বাজার এই পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে নিয়ে সার্কেলের শেয়ারের দাম ২% বেড়ে গেলেও, অনেকের মতে এই ক্রয়ের সঙ্গে প্রকৃত উদ্ভাবনের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং এটি প্রতিযোগীদের দমিয়ে রাখার একটি হাতিয়ার হতে পারে। আইবিএমের নিজস্ব ব্লকচেইন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং কোম্পানিটি মেইনফ্রেম ব্যবসায় আসক্ত হয়ে ক্লাউড ও এআই বিপ্লব থেকে পিছিয়ে পড়েছে। ব্লকচেইনে এক দশক আগে কর্পোরেট বিশ্বের জন্য ইথেরিয়ামের একটি সংস্করণ তৈরির প্রকল্প নিয়ে কিছু আলোচনা তৈরি করলেও সেটি বেশি দূর এগোয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, আইবিএম বছরের পর বছর ধরে সবচেয়ে বেশি পেটেন্ট পাওয়ার ঘোষণা দিয়ে এলেও তা বাস্তব জগতে তেমন কোনো উদ্ভাবন তৈরি করতে পারেনি। অন্যদিকে, সার্কেল ২০১৫ সাল থেকে ক্রিপ্টো দুনিয়ায় রয়েছে এবং ইউএসডিসি স্টেবলকয়েনের মাধ্যমে একটি চিত্তাকর্ষক ব্যবসা গড়ে তুললেও মূলত একটি মাত্র পণ্যের উপর নির্ভরশীল। এখন প্রশ্ন হলো, সার্কেলের সিইও জেরেমি আলাইয়ার এই পেটেন্টগুলো দিয়ে কী করতে চান। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে, তিনি এগুলোকে প্রতিযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন, যেমন লাইসেন্স ফি আদায় করা বা স্টার্টআপদের ভয় দেখানো। অথবা এগুলো ‘পেটেন্ট ট্রল’ নামে পরিচিত শেল কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করে বাণিজ্যিক চাঁদাবাজি চালানো হতে পারে। এটা সম্ভব যে সার্কেল কেবল ব্যাংক ও কার্ড কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে দরকষাকষির ক্ষমতা অর্জনের জন্যই পেটেন্টগুলো ব্যবহার করছে, যারা একটি প্রতিযোগিতামূলক ওপেন-সোর্স স্টেবলকয়েন চালু করার পরিকল্পনা করছে। তবে সার্কেল যে পথই বেছে নিক না কেন, এর থেকে বৃহত্তর ক্রিপ্টো শিল্পের কোনো উপকার হবে বলে মনে হচ্ছে না। বিকেন্দ্রীকরণের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত এই আন্দোলন যদি একটি কোম্পানির পেটেন্টের কবলে পড়ে, তাহলে সাতোশি নাকামোটো কী ভাবতেন, তা কল্পনা করাও কঠিন।