ইসরায়েলের তেল আবিবভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান জেনিটি তাদের সিরিজ সি অর্থায়ন রাউন্ডে ১২৫ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্ট) সুরক্ষার ওপর জোর দেওয়া এই প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে নরওয়েস্ট, সফটব্যাংক ভিশন ফান্ড ২, হিটাচি ভেঞ্চার্স ও এলজি টেকনোলজি ভেঞ্চার্স। এই তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে জেনিটি এক নতুন বাস্তবতাকেই তুলে ধরেছে যে, এআই ঝুঁকিগুলো শক্তিশালী মডেল থেকে নয়, বরং সেই সব স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট থেকে আসে যখন তারা স্বাধীনভাবে কাজ শুরু করে।
জেনিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বেন ক্লাইগার এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে এন্টারপ্রাইজগুলোতে এজেন্ট ব্যবহারের তোড়া উল্লেখ করে বলেন, 'গত এক দশকে আমরা এআই নিরাপত্তার কয়েকটি ঢেউ দেখেছি, যা মডেল ও প্রম্পট সুরক্ষা দিয়ে শুরু হয়েছিল। কিন্তু এজেন্টকে নিরাপত্তার কেন্দ্রে রাখাটাই স্বতন্ত্র।' তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জাপান, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়ায় এই ঢেউ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুত আছড়ে পড়ছে।
প্রথাগত এআই সুরক্ষাব্যবস্থা সাধারণত ব্যবহারকারীর অনুসন্ধান যাচাই বা মডেলের আউটপুট পর্যবেক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু জেনিটি দাবি করছে, তারা এজেন্টের কার্যক্রম রিয়েল-টাইমে নিরীক্ষণ করে এবং মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হলে তা প্রতিরোধ বা পরিবর্তন করতে পারে। ক্লিগার ব্যাখ্যা করেন, 'আমরা ইঞ্জিনের ভেতরে তাকিয়ে দেখি এজেন্টগুলো পর্দার আড়ালে কী করছে, যাতে বোঝা যায় তারা তাদের অভিপ্রায় থেকে সরে যাচ্ছে কিনা—যদি এমন কিছু করে যা সংগঠন, তাদের গ্রাহক বা তথ্যের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করে।'
তহবিলটির একটি অংশ ব্যবহার করে জেনিটি তাদের ব্যবসা এশিয়া-প্যাসিফিক ও ইউরোপে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে। বর্তমানে কোম্পানির ২৩০ জন কর্মী রয়েছে; গবেষণা কার্যক্রম টেল আবিবে এবং পরিচালনা কার্যক্রম নিউইয়র্ক সিটিতে অবস্থিত। ক্লিগার বলেন, 'আমরা যুক্তরাষ্ট্রের মতো এশিয়ার বাজারেও এআই এজেন্ট গ্রহণের বিস্ফোরণ দেখছি। জাপান, কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরে আমাদের ক্লায়েন্টের তালিকা বাড়ছে, এবং বাজার মূলত আমাদের দিকেই আসছে।'
প্রতিষ্ঠানটি বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রিত খাতগুলোর ওপর জোর দিচ্ছে—যেমন আর্থিক সেবা, টেলিযোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ ও জ্বালানি খাত—যেখানে এজেন্টগুলো কেবল অভ্যন্তরীণ কাজেই নয়, বরং গ্রাহক সেবার মতো সরাসরি সংযোগস্থাপনের ভূমিকায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এক বিবৃতিতে সফটব্যাংক কর্পোরেশনের প্রধান তথ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা তাদাশি লিডা বলেন, 'আমাদের এআই এজেন্টের ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই নিরাপত্তা, প্রশাসন ও পরিচালনাগত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা অপরিহার্য হয়ে উঠছে। জেনিটি আমাদের পুরো এন্টারপ্রাইজ জুড়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে এআই এজেন্ট স্থাপন করতে সক্ষম করছে, যে দৃশ্যমানতা ও প্রশাসনের প্রয়োজনীয়তা প্রদান করছে।'
নরওয়েস্টের সহযোগী আসাফ হারেল একই বিবৃতিতে বলেন, 'এন্টারপ্রাইজগুলো গুরুত্বপূর্ণ কর্মপ্রবাহে দ্রুত এআই এজেন্ট গ্রহণ করায় সংগঠনগুলোর এমন একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো দরকার যা এই নতুন ও ক্রমবিকশিত বাস্তবতার জন্য তৈরি।' ক্লিগার অবশ্য বিনিয়োগ-পরবর্তী মূল্যায়ন, লাভজনকতা বা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির চিন্তা সম্পর্কে কিছুই প্রকাশ করেননি। তবিও তিনি কোম্পানির উচ্চাকাঙ্ক্ষা গোপন করেননি। তিনি মন্তব্য করেন, 'সাইবার নিরাপত্তা দুনিয়ায় এটি সেই বিরল সুযোগগুলোর একটি যেখানে সত্যিই একটি বিশাল বিভাগে বিশাল এক কোম্পানি গড়া যায়।'
এদিকে, ওপেনএআইয়ের সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্যের পর এআই সাইবার নিরাপত্তা নতুন করে স্পটলাইটে এসেছে। জিপিটি-৫.৬ সল ও আরেকটি অপ্রকাশিত শক্তিশালী মডেল একটি সিল করা পরীক্ষার পরিবেশ ভেঙে ইন্টারনেটের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে হাগিং ফেসের উৎপাদন ব্যবস্থায় হ্যাক করেছিল। এজেন্টগুলো 'এক্সপ্লয়েটজিম' নামক একটি অভ্যন্তরীণ সাইবার নিরাপত্তা বেঞ্চমার্কের উত্তর কী পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছিল। হ্যাগিং ফেস প্রথমে একটি নেতৃস্থানীয় মার্কিন মডেল দিয়ে হামলার তদন্তের চেষ্টা করলেও, সেটির গার্ডরেইল এতে বাধা দেয়। ফলে তারা চীনা এআই স্টার্টআপ জেড.এআই-এর ওপেন সোর্স মডেল জিএলএম ৫.২ ব্যবহার করে হামলাকারীর রেখে যাওয়া ১৭,০০০-রও বেশি লগ বিশ্লেষণ করে।
এটিকে 'শিল্প-সংজ্ঞায়িতকারী মুহূর্ত' বলে আখ্যায়িত করে ক্লিগার সতর্ক করেছেন, 'এটি দেখায় যে এজেন্টদের নেওয়া সিদ্ধান্ত ও তাদের স্বায়ত্তশাসন সুরক্ষিত করতে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। এজেন্টরা আরও বেশি স্বায়ত্তশাসিত হচ্ছে। তারা এখন শুধু প্রশ্নের উত্তর দেয় না, বরং আপনার এন্টারপ্রাইজের প্রতিটি অংশের সাথে যুক্ত থেকে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ও কাজ করছে।'



