উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নমনীয় নীতির কারণে বিদেশে পড়ার স্বপ্নপূরণ এখন সহজতর হচ্ছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় কঠোর আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোরের বাধ্যবাধকতা শিথিল করে ভিন্ন পথ খুলে দিচ্ছে। মিডিয়াম অব ইনস্ট্রাকশন সনদ, নিজস্ব ভাষা মূল্যায়ন পদ্ধতি কিংবা সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তারা ইংরেজি দক্ষতা যাচাই করছে। ২০২৬ সালে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এ নীতি গ্রহণ করেছে। ফলে যারা ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করেছেন, তাদের জন্য সুযোগ বেড়েছে।
ইউরোপের শিক্ষা গতিবিধি বিবেচনায় জার্মানি বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অগ্রগণ্য। তুলনামূলক সাশ্রয়ী খরচ ও শক্তিশালী গবেষণা কাঠামো দেশটিকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব সিগেন, ইউনিভার্সিটি অব কাইসারস্লটার্ন ও আরডব্লিউটিএইচ আখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু নির্দিষ্ট ইংরেজি প্রোগ্রামে আইএলটিএসের পরিবর্তে এমওআই সনদ গ্রহণ করা হয়। উল্লেখ্য, জার্মানিতে বর্তমানে ১২ শতাংশের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অধ্যালয়রত।
ইউরোপের আরেক শিক্ষা কেন্দ্র ফ্রান্সও এই তালিকায় নাম লিখিয়েছে। ফরাসি বিজনেস স্কুলগুলো ভর্তির ক্ষেত্রে বেশ নমনীয়। নিওমা বিজনেস স্কুল, কেজ বিজনেস স্কুল ও প্যারিস স্কুল অব বিজনেস ইংরেজি মাধ্যমে পূর্ববর্তী পড়ারেখার প্রমাণ ও সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী বাছাই করে থাকে।
এছাড়া নেদারল্যান্ডসের হ্যান ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস, স্যাক্সিয়ন ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব গ্রোনিনজেনের কিছু প্রোগ্রামও এমওআই বা সমগোত্রীয় বিকল্প সন্ট গ্রহণ করে।
উত্তর আমেরিকার কানাডায় সরাসরি আইইএলটিএস ছাড়াই পড়ার দরজা খোলা। সেখানকার কিছু কলেজ এবং পাথওয়ে প্রোগ্রাম আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভাষা প্রস্তুতিমূলক কোর্স চালু করেছে, যা সম্পন্ন করে মূল ডিগ্রিতে প্রবেশ করা যায়। যুক্তরাজ্যের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ও নির্দিষ্ট শর্তের ভিত্তিতে আইইএল্টিএসের বিকল্প ব্যবস্থা রেখেছে। এমনকি আয়ারল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানেও সমরকম নীতির প্রচলন আছে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য মতে, ভর্তি ও ভিসার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ এক নয়। শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি নিশ্চিত হলেই সব বাধা শেষ হয়ে যায় না। অনেক দেশের ভিসা কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর ইংরেজি ভাষার দক্ষতা ও বিদেশে পড়ারার প্রস্তুতি নিজস্ব প্রক্রিয়ায় যাচাই করে। তাই আবেদনের সব তথ্য নির্ভুলভাবে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
আবেদনের জন্য কী কী লাগবে তার একটি সুস্পষ্ট তালিকা তৈরি করাও জরুরি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমওআই সন্ট, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, সপারিশপত্র ও বৈধ পাসপোর্টের মতো নথিপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। স্টেটমেন্ট অব পারপাসে ইংরেজি মাধ্যমে অধ্যালনের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যতের লক্ষ্য প্রাঞ্জল ভাষায় উপস্থাপন করা উচিত। সবচেয়ে বড় কথা হলো, চূড়ান্ত আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট বা ভর্তি কার্যালয় থেকে নির্দিষ্ট কোর্সে আইএল্টএস ছাড়পত্র সুবিধা আছে কি না, তা সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত করে নিতে হবে শিক্ষার্থীদের।




