কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পূর্বপাড়া গ্রামে এক পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। শনিবার সকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফুলবাস আলী (৭৪) কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। কিন্তু তার পুত্র তুজাম উদ্দিন বাড়ি ফেরার পথে মুঠোফোনে জানতে পারেন তাঁর মেয়ে মুন্নি খাতুন (২০) আর বেঁচে নেই। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বাবা ও মেয়েকে হারিয়ে তিনি পাগলপ্রায় অবস্থায় আছেন।
জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত কারণে শুক্রবার বিকেলে মারা যান ফুলবাস আলী। শনিবার সকাল ১০টায় মানিকদিয়ার গোরস্তানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাসের উপস্থিতিতে তাঁকে সমাহিত করা হয়। দাদার মৃত্যুতে গভীর রাত পর্যন্ত মরদেহের পাশে বসে কাঁদছিলেন মুন্নি। তিনি দাদার আদরের নাতনি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে দৌলতপুর থানাপাড়া গ্রামের মোস্তাকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দাদাকে হারিয়ে শুক্রবার রাত পর্যন্ত অঝোরে কাঁদতে থাকেন মুন্নি। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে শনিবার সকালে তিনি মারা যান।
মুন্নির বাবা তুজাম উদ্দিন জানান, তাঁর মেয়ের ডায়াবেটিস ছিল। কয়েকদিন আগে টাইফয়েড জ্বরেও আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। দাদার মৃত্যুর শোক তাকে আরও ভেঙে দেয় বলে মনে করেন পরিবারের সদস্যরা। দুপুরের দিকে দাদার কবরের পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়েছে।
পরিবারের স্বজন সাইদুল ইসলাম বলেন, 'চাচা ফুলবাস আলীর দাফনের পর বাড়ি ফিরতেই ভাতিজি মুন্নির মৃত্যুর খবর পেলাম। এমন শোকের ভার যেন কোনো পরিবারকে কখনো বহন করতে না হয়।' স্থানীয়রা জানান, একই দিনে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে দাদা-নাতনিকে। এই ট্র্যাজেডিতে পুরো গ্রাম শোকাহত।




