চিকিৎসকদের গাফিলতিতে এক ইজিবাইকচালকের প্রাণহানি ঘটেছে এমন দাবিতে নেত্রকোনা জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোববার রাতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে রাত পৌনে ১০টার কাছাকাছি সময়ে, যখন নিহত সজীব মিয়ার (২৩) মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। তিনি পৌর শহরের আমগাছতলা এলাকার বাসিন্দা শুকুর আলীর পুত্র।
স্বজনদের ভাষ্যমতে, পেটে ব্যথা ও বমির উপসর্গ নিয়ে সন্ধ্যাবেলায় সজীবকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি ঘটতে থাকে। তাদের অভিযোগ, কর্তব্যরত চিকিৎসক সুজন পাল বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অজুহাত তুলে যথোপযুক্ত চিকিৎসা দিতে কালক্ষেপণ করেন। এই বিলম্বের জেরেই শেষ পর্যন্ত রোগীটির মৃত্যু হয়। এই অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য জানতে চিকিৎসক সুজন পালের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।
এদিকে, নেত্রকোনা জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মাজহারুল আমিন ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, সেদিন সন্ধ্যা থেকেই হাসপাতালে মূল বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল এবং জেনারেটরের সাহায্যে চিকিৎসা কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছিল। রাত ৮টা ৮ মিনিটে রোগী আসার পরপরই তার ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম (ইসিজি) পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে স্পষ্ট হয় যে, তিনি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হয়েছিলেন। অবস্থা সঙ্কটজনক বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তাকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং স্বজনদের তা অবহিত করা হয়। কিন্তু রেফার করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই সজীব মিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুর খবর মুহূর্তেই আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ভিড় জমান। এক পর্যায়ে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করলে তারা জরুরি বিভাগে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর শুরু করেন। এই ঘটনায় জরুরি বিভাগ ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডের একাধিক জানালার কাচ এবং একটি দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পাওয়ামাত্র নেত্রকোনা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সহায়তায় উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করা হয়। আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মাজহারুল আমিন সেখানে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি ছিল কিনা তা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক একরামুল হাসানও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, চিকিৎসায় কোনো অবহেলা হয়েছে কিনা তার তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানিয়েছেন, বর্তমানে হাসপাতাল এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, এ ঘটনায় যদি কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়, তবে সে অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




