কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পের বিশাল অর্থ ও মেধা কি মানবজাতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানে কাজে লাগানো সম্ভব? ফরচুনের এক সাক্ষাৎকারে এমনই এক নির্বাহীর সন্ধান মিলল, যিনি সেদিকেই এগোচ্ছেন। ফরাসি বংশোদ্ভূত এই উদ্যোক্তা ফিজি সিমো, যিনি ইনস্টাকার্টের প্রধান নির্বাহী ছিলেন এবং সম্প্রতি ওপেনএআইয়ের শীর্ষ পর্যায়ের একজনের পদ ছেড়েছেন, এখন নিজের নতুন উদ্যোগে মন দিয়েছেন। গত জুলাইয়ের শুরুর দিকে ওপেনএআই থেকে বেরিয়ে এসে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ক্রনিকলবায়ো (ChronicleBio) নামের একটি স্টার্টআপ।
শুধু ব্যবসা নয়, এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে তার ব্যক্তিগত যন্ত্রণার ইতিহাস। সিমো পোস্টুরাল অর্থোস্ট্যাটিক ট্যাকিকার্ডিয়া সিনড্রোম (পিওটিএস)-এ ভুগছেন — এমন একটি রোগ যা ক্লান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বমিভাব ও মাথাব্যথার মতো উপসর্গ সৃষ্টি করে। এই রোগটি বর্তমানে নিরাময়যোগ্য নয় বলে বিবেচিত হয়, অথচ লক্ষ লক্ষ মানুষ এতে আক্রান্ত। এমনকি ওপেনএআইয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যানের স্ত্রীও এই রোগে ভোগেন।
সিমোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ক্রনিকলবায়ো রক্ত বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করবে। এর ফলে পিওটিএস রোগীদের উপসর্গের উৎসের ভিত্তিতে আলাদা আলাদা দলে ভাগ করা সম্ভব হবে। বর্তমান চিকিৎসাব্যবস্থায় প্রায়ই সব রোগীকে একই কাতারে ফেলা হয়, কিন্তু সিমো মনে করেন এতে চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে। তার পদ্ধতিতে ক্লিনিকাল ড্রাগ পরীক্ষা আরও নির্দিষ্ট এবং সফল হবে, যা এখন প্রায়ই অনিষ্পন্ন থেকে যায়।
তিনি বলেন, এই রোগগুলো এত জটিল যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ছাড়া এগুলো সমাধান করা ছিল ভীষণ কঠিন। শরীরের একাধিক সিস্টেম জড়িত থাকায় স্নায়ুতন্ত্র, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং জিনগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে তার সম্পর্ক — সবকিছু একসঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হয়, যা বিশাল একটি ডেটা সমস্যা। প্রযুক্তির সহায়তা ছাড়া এই বিশাল ডেটা বোঝা প্রায় অসম্ভব ছিল।
প্রযুক্তি শিল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রিপোর্ট করার অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, এমন একজন ক্ষমতাধর ব্যক্তিকে এতটা সার্বজনীন ও ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানের চেষ্টায় দেখা সত্যিই বিরল। ডাক্তাররা যেসব দীর্ঘস্থায়ী রোগের কারণ বা চিকিৎসা খুঁজে পান না, এমন অনেক মানুষকে আমি চিনি। নতুন ও সফল ওষুধ বাজারে আনলে বিপুল মুনাফার সম্ভাবনা রয়েছে, আর যেহেতু তিনি নিজেই এই রোগে আক্রান্ত, তাই আশা করা যায় তিনি ন্যায্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজটি করবেন।




