বিশ্বকাপ জিতে উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার পাওয়া পাউ কুবারসির মন এখন দ্বিধায় ভরা। একদিকে যেমন স্পেনকে শিরোপা এনে দেওয়ার আনন্দ, অন্যদিকে নিজের আদর্শ লিওনেল মেসির হারের দুঃখ। ১৯ বছর বয়সী এই বার্সেলোনা ডিফেন্ডারের ভাষায়, 'আমি আগে কখনো মেসিকে সরাসরি দেখিনি। যখন তিনি আমার সঙ্গে হাত মেলাতে এলেন, তখন বুঝতে পারলাম এটি সত্যি ঘটনা। তাঁর বিপক্ষে খেলা আমার জন্য বিশাল পাওয়া। তিনি আমার আইডল। তিনি হেরে গেছেন জেনে আমার খারাপ লাগছে। তবে আমাদের জয়ে আমি অত্যন্ত খুশি।'
আদর্শের প্রতি মায়া থাকলেও মাঠে কিন্তু কুবারসি কোনো ছাড় দেননি। ফাইনালে তার পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান চোখে পড়ার মতো। পুরো ১২০ মিনিটের ম্যাচে তিনি মোট ১২৬টি পাস বাড়িয়েছিলেন, যার মধ্যে ১২১টিই ছিল নিখুঁত—অর্থাৎ ৯৬ শতাংশ নির্ভুলতা। শুধু বল ধরে রাখাই নয়, স্পেনকে তিনি এগিয়ে নিয়ে গেছেন আক্রমণেও। প্রতিপক্ষের অর্ধে ৪৮টি পাসের মধ্যে ৪৫টি সফল হয়, আর নিজেদের অর্ধে ৭৮টি পাসের মধ্যে ৭৬টি সতীর্থদের কাছে পৌঁছে দেন। ম্যাচে মোট ১৩৯ বার বল স্পর্শ করেন কুবারসি, যেন বল চুম্বকের মতো তার পায়ে ফিরে আসছিল। চারটি দূরপাল্লার পাসের দুটি সফল হয়, সঙ্গে ছিল একটি কী পাসও। প্রতিপক্ষের গোলবারেও একটি শট নিয়েছিলেন তিনি।
রক্ষণভাগেও কুবারসি ছিলেন দুর্ভেদ্য। পুরো ম্যাচে তিনি বল হারিয়েছেন মাত্র পাঁচবার, যা একজন সেন্ট্রালব্যাকের জন্য অসাধারণ। ছয়বার বল ক্লিয়ার করে বিপদ এড়ান, পাঁচবার বল রিকভারি করেন। আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের সঙ্গে ১০টি দ্বৈরথের সাতটিতেই জিতেছেন এই তরুণ। বল পায়ে এতটাই বিপজ্জনক ছিলেন যে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়রা তাকে থামাতে তিনবার ফাউল করে। মেসিকে বোতলবন্দী করে রাখার কাজটি কুবারসির নেতৃত্বে স্পেনের রক্ষণভাগ সফলভাবেই সম্পন্ন করে।
দুই দশক আগে কুবারসির বর্তমান ক্লাব বার্সেলোনাই আবিষ্কার করেছিল ৩৯ বছর বয়সী মেসিকে। নিজের আঁতুড়ঘরের সেই কিংবদন্তিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতা কুবারসির কাছে সবকিছু এখনো স্বপ্নের মতো। তিনি বলেন, 'সবকিছু অবাস্তব মনে হচ্ছে। এই অভিজ্ঞতার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। রেফারি যখন শেষ বাঁশি বাজালেন, মনে হলো আমরা ইতিহাস গড়েছি। আমি সব সময় বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন দেখতাম, কিন্তু কখনো ভাবিনি নিউইয়র্কে গিয়ে সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরব! এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না।'
স্পেনের এই শিরোপা জয়ের পেছনে কোনো একক জাদু ছিল না বলে জানান কুবারসি। তাঁর মতে, দলের একতাই ছিল মূল শক্তি। তিনি শেষ করেন, 'এই টুর্নামেন্টে কঠিন সব দলের মুখোমুখি হয়েছি। কিন্তু আমরা একটি পরিবারের মতো খেলেছি। আর সেই বন্ধনের কারণেই আজ আমরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।'




