দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। গতকাল সোমবার দুপুরে এ অভিযানে সুন্দর আলী (৪৬) নামের ওই অটোরিকশাচালককে তালাবদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে অপহরণ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কুদ্দুস মিয়া (৩৮), জুয়েল রানা (৪০), রাকিব হাওলাদার (২৬) ও অপু মীর ওরফে বায়জিদ (৩৫)।

ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার বিকেলে। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন সুন্দর আলী। ওইদিন তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের গোলাম বাজার থেকে রামেরকান্দা এলাকায় মেয়ে দেখতে যাচ্ছিলেন। পথে ধর্মশুর এলাকায় পৌঁছালে চারজন তাঁর অটোরিকশার গতিরোধ করে। পরে তাঁকে মারধর করে জোর করে অন্য একটি অটোরিকশায় তুলে রামেরকান্দা বালুর মাঠ এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে সুন্দর আলীকে ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, সুন্দর আলীকে অচেতন করে রাখা হয়। তাঁর মুঠোফোন ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত মুক্তিপণের টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দুইটার দিকে তাঁকে শুভাঢ্যা এলাকায় আসামি রাকিবের ভাড়া বাসায় তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। প্রথমে পরিবার মোবাইল আর্থিক সেবা নগদের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা পাঠায়। পরে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করে আরও ৩৯ হাজার টাকা দেয়। কিন্তু তাতেও সুন্দর আলীকে ছেড়ে দেয়নি অপহরণকারীরা। বরং হত্যার হুমকি দিয়ে আরও টাকা দাবি করতে থাকে।

উপায় না দেখে সুন্দর আলীর স্বজনরা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং র‍্যাব-১০ এর সহায়তা চান। অভিযোগ পেয়ে র‍্যাব তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে গতকাল সোমবার দুপুরে শুভাঢ্যা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাকিবের ভাড়া বাসা থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় সুন্দর আলীকে উদ্ধার করে। একই সঙ্গে চার অপহরণকারীকেও গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। কুদ্দুস মিয়ার বিরুদ্ধে চারটি, জুয়েল রানার বিরুদ্ধে পাঁচটি, রাকিব হাওলাদারের বিরুদ্ধে একটি এবং বায়জিদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে। মামলাগুলো ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত। বর্তমান অপহরণ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানিয়েছে র‍্যাব।