বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রথম মাস ফক্স ওয়ানের জন্য অনন্য সাফল্য বয়ে এনেছে। স্ট্রিমিং বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যান্টেনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসেই এই পরিষেবায় ২৮ লাখ নতুন সাবস্ক্রাইবার যুক্ত হয়েছে। এই সংখ্যা টুর্নামেন্টের শেষ তিন সপ্তাহে আসা গ্রাহকদের অন্তর্ভুক্ত নয়। উদ্বোধনী দিন ১১ জুন একাই ৪ লাখ সাইন-আপ নথিভুক্ত হয়। জুন মাসে মোট নতুন গ্রাহকদের ৯৩ শতাংশই ছিলেন সম্পূর্ণ নতুন, যা পরিষেবাটির প্রতি নবাগত আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।

ফক্স ওয়ানের জন্য জুনের এই উত্থান আগের মাসিক রেকর্ডের তুলনায় আড়াই গুণেরও বেশি। গত জানুয়ারিতে এনএফএল প্লে-অফের কিছু ওয়াইল্ড কার্ড ম্যাচ ও এনএফসি চ্যাম্পিয়নশিপ সম্প্রচারের সময় ১১ লাখ গ্রাহক যুক্ত হয়েছিল। তবে বিশ্বকাপের জেরে সেই রেকর্ড এখন ছাড়িয়ে গেছে।

গ্রাহক সংগ্রহের পদ্ধতিতেও বড় পরিবর্তন এসেছে জুন মাসে। আগস্ট থেকে মে মাস পর্যন্ত আমাজন চ্যানেলের মাধ্যমেই সিংহভাগ সাইন-আপ হতো। জুন মাসে সরাসরি ফক্সের মাধ্যমে সাইন-আপের হার বেড়ে ৪০ শতাংশ হয়েছে, আর আমাজন চ্যানেলের অংশ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৯ শতাংশে।

বিশ্বকাপ শেষ হলেও ফক্স ওয়ানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। অ্যান্টেনা মনে করছে, টুর্নামেন্ট শেষে গ্রাহক সংখ্যায় বড় পতন ঘটতে পারে। তবে নতুন গ্রাহকদের অনেকেই ফক্সের এনএফএল গেমস দেখার জন্য থেকে যেতে পারেন। ফক্স চলতি বছর প্রথম ফুটবল ম্যাচ সম্প্রচার করবে ১৫ নভেম্বর জার্মানিতে প্যাট্রিয়টস-লায়ন্স ম্যাচ দিয়ে। এছাড়া থ্যাঙ্কসগিভিং ডেতে ঈগলস-কাউবয়েজ ম্যাচ ও নির্বাচিত প্লে-অফ ম্যাচ সম্প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে।

পুরুষ বিশ্বকাপের ইংরেজি সম্প্রচার স্বত্ব ফক্সের কাছে, যার মূল্য ৪৮৫ মিলিয়ন ডলার। দর্শকরা ফক্সের প্রধান সম্প্রচার নেটওয়ার্ক, কেবল চ্যানেল এফএস১ বা ফক্স ওয়ানের মাধ্যমে খেলা দেখতে পেতেন। উদ্বোধনী ম্যাচ মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বব্যাপী ১২০ কোটিরও বেশি দর্শক টেনেছিল, যার মধ্যে ফক্স চ্যানেলে ৬৩ লাখ দর্শক ছিলেন—এটি যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ফাইনাল ম্যাচ স্পেন-আর্জেন্টিনা আনুমানিক ২০ লাখ দর্শক দেখেছেন, যদিও চূড়ান্ত সংখ্যা এখনও প্রকাশিত হয়নি।

এবারের বিশ্বকাপ থেকেই প্রথমবারের মতো 'পানীয় বিরতি' (হাইড্রেশন ব্রেক) চালু হয়, যা বিতর্কের জন্ম দেয়। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যাওয়ায় ফিফা প্রতিটি অর্ধের মাঝখানে বাধ্যতামূলক তিন মিনিটের বিরতি চালু করে। এই বিরতি খেলার ছন্দ ব্যাহত করলেও বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য সুযোগ তৈরি করে। প্রতি ম্যাচে আটটি অতিরিক্ত ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের স্লট রাখা হয়। বিবিসি স্পোর্টের মতে, ফক্স স্পোর্টসে বিশ্বকাপের একটি ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের গড় মূল্য ছিল ২-৩ লাখ ডলার, যা মার্কিন ম্যাচ ও শেষ পর্যায়ে বেড়ে ৭.৫ লাখ ডলারে পৌঁছায়। শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই এই বিরতির মাধ্যমে আনুমানিক ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বিজ্ঞাপন রাজস্ব অর্জিত হয়েছে।

নিলসেনের তথ্য অনুযায়ী, ফক্স ও এফএস১-এ ৪৮টি প্রাথমিক ম্যাচের সবকটিই ৯ হাজার ৭২২ জন দর্শক সম্পূর্ণ দেখেছেন। টুর্নামেন্টে মোট ১০৪টি ম্যাচ থাকলেও সবগুলো ম্যাচ কতজন দর্শক দেখেছেন তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।