সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেই ঘটনার চার দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবদুর রহমান (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর বড় ভাই হাসান গুরুতর আহত হয়ে এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উপজেলার রায়গঞ্জ পৌরসভার ধানগড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আবদুর রহমান স্থানীয় রায়গঞ্জ বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজের চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। আজ শুক্রবার সকাল আটটার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আহত হাসান বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। দুই ভাই স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ফিরোজ আহমেদের সন্তান।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে এলাকায় মাদক সেবন করছিল স্থানীয় মো. তারা শেখের ছেলে টিটোন। এতে বাধা দেওয়ায় আবদুর রহমান ও হাসানের সঙ্গে টিটোনের কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে টিটোন বার্মিজ ছুরি ও চাপাতি দিয়ে দুই ভাইয়ের ওপর চড়াও হন। এতে তারা গুরুতর জখম হন। স্বজনদের বরাতে জানা যায়, প্রথমে তাদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আবদুর রহমানের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তার একটি হাত কেটে ফেললেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। অন্যদিকে হাসান এখনও বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আবদুর রহমানের অকাল মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ তাঁর সহপাঠী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁর সহপাঠী রেজুয়ান হাসান ও সীমান্ত তালুকদার জানান, এই মৃত্যু তাদের মর্মাহত করেছে। তারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। ঘটনার পর থেকেই পলাতক টিটোন ও তার পরিবারের সদস্যরা। তাদের মুঠোফোনও বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আবদুর রহমানের লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর পর রায়গঞ্জ থানার পুলিশ হেফাজতে নিয়ে তা ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি।
থানার ওসি মো. আহসানুজ্জামান আজ বেলা সাড়ে তিনটার দিকে জানান, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আবদুর রহমানের বাবা ফিরোজ আহমেদ বলেন, তাঁর ছেলে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিল। তিনি আশায় ছিলেন, ছেলে পড়ালেখা করে ভালো কিছু করবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছোট ছেলেটাকে যারা এভাবে হত্যা করল, তাদের আমি ফাঁসি চাই।’




