আগামী বুধবার, ৫ আগস্ট একটি নিয়ন্ত্রণহীন স্পেসএক্স রকেট চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়তে চলেছে। রকেটটি একটি ফ্যালকন ৯ মডেলের, যা অনেক আগেই পরিত্যাক্ত অবস্থায় মহাকাশে ভেসে বেড়াচ্ছিল। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, চন্দ্রপৃষ্ঠে আঘাত হানার মুহূর্তে এটি একটি বিশাল ধ্বংসাবশেষের স্তম্ভ বা প্লুম তৈরি করবে।
পৃথিবী থেকে এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করার একটি সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। চাঁদের বুকে রকেটটির আছড়ে পড়ার ফলে যে ধ্বংসাবশেষের কুণ্ডলী উৎক্ষিপ্ত হবে, তা শক্তিশালী টেলিস্কোপ বা দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দৃশ্যমান হতে পারে। এই অনিয়ন্ত্রিত রকেট বস্টারটির গতিপথ নিয়ন্ত্রণের কোনো সুযোগ না থাকায় এটি সরাসরি চাঁদের গায়ে গিয়ে আঘাত করবে।
মহাকাশের বিশাল আবর্জনার ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত এই ধরণের পুরনো যন্ত্রাংশ দীর্ঘদিন কক্ষপথে পরিভ্রমণের পর একটি প্রাকৃতিক মহাকাশীয় বস্তুতে ধাক্কা খাওয়ার ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। বিশেষজ্ঞ মহল এই সংঘর্ষকে ঘিরে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যদিও এটি চাঁদের জন্য কোনো বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করবে না বলে মনে করা হচ্ছে। তববং এত বড় কোনো কৃত্রিম বস্তু চাঁদে আছড়ে পড়ার ঘটনা মহাকাশ গবেষণা ও ভবিষ্যতের নভোযান পরিচালনায় নতুন প্রশ্নের জন্ম দেবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
স্পেসএক্সের এই পরিত্যক্ত অংশটি কবে উৎক্ষিপ্ত হয়েছিল, তা নিশ্চিত করে জানা যায়নি। তবে এটি দীর্ঘদিন ধরে পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যকার মহাকর্ষ বলয়ের প্রভাবে কক্ষপথে ঘুরছিল। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সংঘর্ষের পর চাঁদের মাটিতে একটি নতুন গর্ত তৈরির সম্ভাবনা তৈরি হবে।
শেষবার ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই তথ্যটি হালনাগাদ করে জানানো হয়েছিল যে, পরিত্যাক্ত রকেটটির চাঁদে পতনের সময় ঘনিয়ে এসেছে। ঘটনাটি মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য স্মৃতি হিসেবে থেকে যাবে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।




