প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬-এর প্রস্তুতিতে শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলনী তৈরি করেছেন ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মিজানুর রহমান।
জলবায়ু ও আবহাওয়ার ধারণা নিয়ে শুরু এই অনুশীলনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময়ের আবহাওয়ার গড় অবস্থাই জলবায়ু। আবহাওয়া ও জলবায়ু যে এক নয়, তা স্পষ্ট করে দেখানো হয়েছে। জলবায়ু নির্ধারণে ৩০ থেকে ৩৫ বছরের তথ্য বিবেচনা করা হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
জীবাশ্ম জ্বালানির প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, কয়লা নবায়নযোগ্য জ্বালানি নয়। অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। কার্বন ডাই-অক্সাইডকে গ্রিনহাউস গ্যাস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং খরার মতো প্রভাব পড়তে পারে বলেও দেখানো হয়েছে।
পরিবেশবান্ধব শক্তির কথা বলতে গিয়ে সৌরশক্তিকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বন উজাড় করলে পরিবেশের ক্ষতি হয় বলে জানানো হয়েছে। বিদ্যুৎ অপচয় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করেন শিক্ষক। গাছপালা কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে বলেও উল্লেখ আছে।
প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়ানো পরিবেশের জন্য মোটেও উপকারী নয়। পুনর্ব্যবহার পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাদ্যসংকটের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়। সাইকেল ব্যবহার করলে দূষণ কমে — এই বিষয়টিও অনুশীলনে স্থান পেয়েছে।
গাছ কাটা জলবায়ু পরিবর্তন কমাতে সাহায্য করে না, বরং এটি পরিস্থিতি আরও খারাপ করে। নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো উচিত বলে জোর দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়, বরং সবার অংশগ্রহণ জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তন রোধে সকলকে সচেতন হতে হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন শিক্ষক।
অনুশীলনীটিতে ২০টি প্রশ্নের সত্য/মিথ্যা উত্তর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি উত্তরের পাশে ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এই অনুশীলনের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মিজানুর রহমান।




