জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজার বুধবারও উর্ধ্বমুখী ধারায় রইল। পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে ব্রেন্ট বেঞ্চমার্কে অপরিশোধিত তেলের দাম দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৯২.৬৫ ডলারে। আগের দিনের মূল্যের সঙ্গে তুলনা করলে এটা ৩.১২ ডলারের ঊর্ধ্বগতি, আর গত মাসের চেয়ে প্রায় ২৪.৫৬ শতাংশ বৃদ্ধির চিত্র। এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায়ও দাম প্রায় ২৫.৮১ শতাংশ বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি পণ্যটির বাজারমূল্য সহজাতভাবেই অনিশ্চিত। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে চাহিদা ও জোগানের মৌলিক বিষয়গুলো। অর্থনৈতিক মন্দা, যুদ্ধাবস্থা কিংবা অন্য কোনো বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হলে তেলের দাম সহসাই বড় ধরনের ওঠানামা করতে পারে। পাম্পে গাড়ির জালানি যে মূল্যে পাওয়া যায়, তার অর্ধেকের বেশি আসে অপরিশোধিত তেলের দাম থেকে। বাকি অংশ জুড়ে থাকে পরিশোধনাগার, পাইকারি বিক্রেতা, সরকারি কর ও পেট্রল পাম্পের নিজস্ব মার্কাপ।
বৈশ্বিক সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুদ (এসপিআর) জরুরি ভূমিকা রাখতে পারে। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে, যেমন নিষেধাজ্ঞা, প্রকৃতিক দুর্যোগ বা যুদ্ধাবস্থায় এই মজুদ জরকারী ভূমিকা রাখতে পারে। এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়; বরং গুরুত্বপূর্ণ শিল্পক্ষেত্র ও জনসেবা সচল রাখার একধরনের স্বল্পমেয়াদি নিরাপত্তাকবচ হিসেবেই কাজ করে।
অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজার পরস্পর সংযুক্ত। তেলের মূল্যবৃদ্ধি ঘটলে কিছু খাতে বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার বাড়তে পারে, যা গ্যাসের চাহিদা ও দাম বাড়ায়। অতীতের দিকে তাকালে, ১৯৭০-এর দশকের ইয়ম কিপ্পুর যুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্যের নিষেধাজ্ঞা থেকে শুরু করে ২০০৮-এর বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধি এবং ২০২০ সালের কোভিড লকডাউনের দাম ধস — ইতিহাস জুড়েই তেলের বাজার অস্থিরতার পরিচয় দিয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন ব্রেন্ট বেঞ্চিমার্ককেই এর প্রাথমিক সূচক হিসেবে ব্যবহার করে। ফরচুনের আরও বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, প্রাযুক্তিক শেয়ারের দরপতন ও তেলের মূল্যবৃদ্ধি একসঙ্গে বাজারকে নিচের দিকে ঠেলছে, অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের কারণে ইউরোপ ও এশিয়ার গ্যাস সংকট আরও ঘনিভূত হচ্ছে।




