লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত Ai4 সম্মেলনে গত সপ্তাহে সিইও, শিক্ষাবিদ এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন এক ধাপে পৌঁছেছে যেখানে একটি চমৎকার জীবনবৃত্তান্তই প্রার্থীর জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রশ্ন উঠেছে—যদি এআই নিখুঁত সিভি তৈরি করে দিতে পারে, তাহলে কি প্রার্থী যাচাইয়ের মাধ্যম হিসেবে জীবনবৃত্তান্তের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে? আর নিয়োগকারীরাও যখন এআই ব্যবহার করছেন, তখন প্রার্থীরা কীভাবে নিজেদের আলাদা করে দেখাবেন?

প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের এআই এনগেজমেন্ট ও কমিউনিটি ডিরেক্টর ক্যাথলিন ওয়ালচ সম্প্রতি একটি শূন্য পদের জন্য একাধিক জীবনবৃত্তান্ত পান, যেগুলো এতটাই 'অতিনিখুঁত' ছিল যে প্রার্থীদের পক্ষে সেই সব দক্ষতা থাকা সম্ভব বলেই মনে হয়নি। মঞ্চে আলোচনায় তিনি বলেন, এটি সত্যিই বিরক্তিকর। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা এমন কাজ করছেন তারা সম্ভবত ইন্টারভিউয়ের ডাক পাচ্ছেন না। তাঁর মতে, এভাবে নিজের প্রামাণিক মানবিক সত্তাকে হারানো হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন—আমরা কেন আপনাকে নিয়োগ দেব? আপনি মানুষ বলেই। যদি মানুষ নিয়োগের প্রয়োজন না হতো, তাহলে তো আমরা এআই এজেন্ট তৈরি করে নিতাম।

তবে আপাতত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জীবনবৃত্তান্তের কিছু ভূমিকা আছে। কিন্তু এআই এখন ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে প্রার্থীর প্রকৃত ক্ষমতা যাচাইয়ের ওপর জোর দিচ্ছে। ওয়ালচ তাঁর পদ্ধতিতে প্রার্থীদের জটিল প্রকল্প পরিচালনার সময় নেওয়া প্রতিটি ধাপ ব্যাখ্যা করতে বলেন, কোথায় ভুল হয়েছিল এবং কীভাবে তা সামাল দেওয়া হয়েছিল—সেসবও জানতে চান তিনি। অন্যদিকে জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির দায়িত্বশীল এআই পোর্টফোলিও প্রধান আইশা লরি প্রার্থীদের নৈতিক বিচারক্ষমতা পরীক্ষা করেন। তিনি তাঁদের জিজ্ঞেস করেন, বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহার করা সম্ভব বলে সেটা করা কি উচিত?

তবে এর অর্থ এই নয় যে চাকরিপ্রার্থীদের এআই ব্যবহার সম্পূর্ণ ছেড়ে দিতে হবে। বুদ্ধিমানের সঙ্গে ব্যবহার করলে এটি এমন সুযোগ খুঁজে দিতে পারে যা অন্য কোনোভাবে তারা পেত না। গত সপ্তাহে একজনের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, তিনি নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী মনে করা চাকরিতে মাসের পর মাস আবেদন করেও সফল হননি। এরপর ইনডিডের এআই তাঁর জীবনবৃত্তান্ত, সাইটে তাঁর আচরণ এবং শিল্পের নিয়োগের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে একটি ভিন্ন ধরনের পদ খুঁজে দেয়। তিনি সেখানে আবেদন করে শেষ পর্যন্ত কাজ পেয়ে যান। ইনডিডের সিআইও ও সিএসও অ্যান্থনি মোইসান্ট জানান, প্ল্যাটফর্মে স্পনসরড আবেদনের ৭০ শতাংশ এখন অ্যালগরিদমের সুপারিশ থেকে আসে, খোঁজ করে নিজে আবেদন করা থেকে নয়। তাঁর মতে, মানুষ প্রতিটি সুযোগ নিজে খুঁজে বের করতে পারে না।