আইডাহোর মিডল ফর্ক অফ দ্য স্যালমন নদীতে ছয় দিনের এক রোমাঞ্চকর যাত্রা লেখকের জীবন ও পরিবেশ ভাবনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। তার স্ত্রী ট্রেসি এবং আরও পাঁচজনের সাথে লুন ক্রিক-এর দিকে হাইকিং করার সময় তারা পাঁচটি বিশাল স্যালমন মাছের দেখা পান। এই দৃশ্যটি লেখকের মনে জলজ জীববৈচিত্র্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে নতুন চিন্তার জন্ম দেয়। তাদের এই যাত্রায় 함께 ছিলেন শোশোন-ব্যানক উপজাতির সদস্য এবং জল বিজ্ঞানী স্যামি মাটসাও জুনিয়র, যিনি এই ভূখণ্ডকে কেবল 'বন্যভূমি' হিসেবে নয়, বরং আদিবাসীদের 'পূর্বপুরুষের আবাসভূমি' হিসেবে দেখতে শিখিয়েছেন।

ভ্রমণের সময় লেখক নদীর প্রবল শক্তির মুখোমুখি হন। রাফটিং করার সময় তিনি অনুভব করেন যে, এই বিপুল জলপ্রবাহকে কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করা কতটা যৌক্তিক। টেনেসিতে বসবাসকারী লেখক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ইতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কে অবগত। এটি কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির যোগান দেয়। তবে এই ভ্রমণের পর তিনি বুঝতে পারেন, বাঁধ কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না, বরং তা প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিপথকেও বাধাগ্রস্ত করে।

স্যালমন মাছের জীবনচক্র এখানে একটি বড় উদাহরণ। এই মাছগুলো সমুদ্র থেকে শত শত মাইল পথ অতিক্রম করে তাদের জন্মস্থানে ফিরে আসে। কিন্তু স্নেক নদীর নিম্নপ্রবাহে অবস্থিত চারটি ফেডারেল বাঁধ তাদের এই দীর্ঘ অভিযাত্রাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। যদিও এই বাঁধগুলো নৌ-চলাচল এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এর ফলে স্যালমন মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA) এই বাঁধগুলো অপসারণ করে নদীকে মুক্ত প্রবাহে ফিরিয়ে আনার কথা বলেছে, যাতে মাছের প্রজনন ও পরিবেশের ভারসাম্য ফিরে আসে।

লেখক মনে করেন, অবকাঠামো অপসারণের বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে করা উচিত। তিনি প্রস্তাব করেন যে, বাঁধ সরিয়ে ফেলার আগেই বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, কৃষিপণ্য পরিবহনের রেল ব্যবস্থা এবং সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর নেতৃত্ব ও তাদের অধিকারকে এই প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে রাখা জরুরি। তিনি উদাহরণ হিসেবে ওরেগন ও ক্যালিফোর্নিয়ার ক্ল্যামাথ নদীর বাঁধ অপসারণের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে বাঁধ সরিয়ে দেওয়ার পর দ্রুতই স্যালমন মাছ ফিরে এসেছে।

পরিশেষে, লেখক এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, পূর্ববর্তী প্রজন্মের সিদ্ধান্তগুলোকে অন্ধভাবে ধরে রাখা মানেই সংরক্ষণ নয়। প্রকৃত সংরক্ষণ বা 'স্টিওয়ার্ডশিপ' হলো সময়ের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া। কিছু ক্ষেত্রে পুরনো অবকাঠামো রক্ষা করা দরকার, আবার কিছু ক্ষেত্রে পরিবেশের বৃহত্তর স্বার্থে তা সরিয়ে ফেলা প্রয়োজন। লুন ক্রিকের সেই পাঁচটি স্যালমন মাছের লড়াই তাকে শিখিয়েছে যে, মানুষের তৈরি বাধাগুলো সরিয়ে দিয়ে প্রকৃতির স্বাভাবিক ছন্দ ফিরিয়ে আনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।