ভারতের বিখ্যাত কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানকে ঘিরে ভূমি ও উন্নয়ন নিয়ে যে বড় সংগ্রাম চলছে, সেই প্রেক্ষাপটেই আলোচনায় এসেছে এক পরিবেশবাদী কর্মীর আটক হওয়ার ঘটনা। বিলাসবহুল একটি হোটেল নির্মাণ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন ওই কর্মী, আর তার জেরেই তাঁকে জেলে পাঠানো হয়েছে।

কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যান এক শিংওয়ালা গণ্ডারের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এই উদ্যানের বাস্তুসংস্থান ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রশ্নে স্থানীয় বাসিন্দা এবং পরিবেশকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিরুদ্ধে সোচ্চার। সম্প্রতি ওই এলাকায় একটি বিলাসবহুল হোটেল তৈরির পরিকল্পনা ঘিরে বিতর্ক চরমে পৌঁছায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হোটেলটি নির্মিত হলে উদ্যানের প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই আশঙ্কা থেকেই স্থানীয়রা এবং পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো প্রকল্পটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করে। সেই আন্দোলনের একজন প্রধান মুখ ছিলেন ওই কর্মী, যিনি এখন কারাগারে।

তাঁর কারাবাসের ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে — যেখানে একদিকে রয়েছে অর্থনৈতিক উন্নয়নের দাবি, অন্যদিকে রয়েছে প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা। কাজিরাঙ্গার মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে এই দুই স্বার্থের সংঘাত কতটা গভীর, তা এই ঘটনার মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

কর্মীর সমর্থনে ইতিমধ্যে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদের আওয়াজ তুলেছে। তাঁদের দাবি, পরিবেশ রক্ষায় যারা কাজ করে তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ ন্যায়সঙ্গত নয়। অন্যদিকে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইন মেনেই সব কাজ হচ্ছে এবং পরিবেশের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে তারা আশ্বস্ত করেছেন।

তবে এই ঘটনা আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এনে দিয়েছে কাজিরাঙ্গার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন — যে অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা হবে, নাকি উন্নয়নের নামে বাণিজ্যিক স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। এই দ্বন্দ্বের মাঝেই আটক কর্মীর ভাগ্য এখন কারাগারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে, আর তাঁর মুক্তির দাবিতে আন্দোলন ক্রমেই জোরদার হচ্ছে।