ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রোববার জুলাই আন্দোলনকালীন এক হত্যা মামলায় হাজির করা হয় সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি নিজের শারীরিক সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য পর্যাপ্ত সময়ের আবেদন জানান। পলক বলেন, তাঁর ঘাড়ে আঘাত লেগেছে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হেলমেট পরতে নিষেধ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে ৯৮টি মামলা রয়েছে, এর মধ্যে তিনি ৯৯ দিন রিমান্ডে ছিলেন এবং তিনটি মামলার বিচার চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও তাঁর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য চলছে বলে জানান তিনি। এ কারণে আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের জন্য বিশেষ সময় প্রয়োজন বলে আদালতকে বোঝান পলক। তিনি আরও বলেন, পনেরো দিনে পরিবারের সঙ্গে মাত্র আধা ঘণ্টা কথা বলার সুযোগ পান। তাই আইনজীবীদের সঙ্গে দুই সপ্তাহে দুই দিন অন্তত তিন ঘণ্টা করে বিশেষভাবে কথা বলার অনুমতি প্রার্থনা করেন তিনি। পলকের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিনও আদালতের কাছে এই আবেদন সমর্থন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার বিশেষ জজ ৪-এর বিচারক রবিউল আলম কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ফারজানা ইয়াসমিন জানান, স্বাভাবিক নিয়মে পনেরো দিন পরপর পরিবার বা আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ থাকলেও বাস্তবে তাঁরা দেখা করতে পারছেন না। অধিকাংশ মামলাই চার্জ শুনানির পর্যায়ে থাকায় পরামর্শের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মালবাহী ট্রাকচালক মো. হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ সময় সাজ্জাদ ও শাহিন নামে দুই ব্যক্তি আহত হন। হোসেনের মা মোসা. রীনা বেগম ওই বছরের ৩১ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ২৩ নভেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. আকরামুজ্জামান ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এ মামলায় ৩৪ আসামির মধ্যে রোববার কারাগারে থাকা চারজনকে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা আরও আটজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি আসামিরা পলাতক। বর্তমানে পলক ছাড়াও সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, সাদেক খান ও ফুরকান হোসেন কারাগারে রয়েছেন। পুলিশি নিরাপত্তায় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে পলককে হাজির করে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। পরে বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে তাঁকে আদালতে ওঠানোর জন্য হাজতখানা থেকে বের করা হয়। সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় পলক বারবার হাত উঁচু করে ‘ভি চিহ্ন’ দেখাতে থাকেন। তাঁর আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, সাধারণত ভি চিহ্ন মানে বিজয় বোঝায়। তবে তিনি এ বিষয়ে পলকের সঙ্গে কথা বলেননি বলে জানান। তাঁর ধারণা, ভক্ত-সমর্থকদের উৎসাহ দিতেই তিনি এ চিহ্ন ব্যবহার করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, পলক প্রায়ই আদালতে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করেন, যা তাঁর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এভাবে তিনি জনমত তৈরির চেষ্টা করেন। আসামিদের এমন চিহ্ন দেখানো, চিৎকার বা কথা বলা শোভনীয় নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। আদালতের কার্যক্রম শেষে হাজতখানা থেকে পলককে প্রিজন ভ্যানে ওঠানোর প্রস্তুতিকালে চারজনকে আটক করে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন মোস্তাকিম হোসেন, নূর আলম, আনোয়ার হোসেন ও রুহুল আমিন। ঢাকা মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. নাজিম উদ্দীন আল আজাদ জানান, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আদালতে পলকের শারীরিক অসুস্থতার কথা, আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য বিশেষ সময় চাইলেন
সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জুলাই আন্দোলনে ট্রাকচালক হত্যা মামলায় আদালতে হাজির হয়ে ঘাড়ের আঘাত ও অসুস্থতার কথা জানিয়ে আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়েছেন। আদালত কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ সময় পলক ‘ভি’ চিহ্ন দেখান এবং চার সমর্থককে আটক করে পুলিশ।




