মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আক্রমণ চালিয়েছে। তেহরানের দাবি, জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনও রাতভর বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা স্ট্রেট অব হরমুজে ইরানের নাবিকদের হুমকি মোকাবিলায় সাত ঘণ্টাব্যাপী একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়েছে। এই হামলার লক্ষ্য ছিল 'ইরানের সক্ষমতা হ্রাস করা'। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেন, দেশটিকে 'ভালো আচরণ' করতে হবে, অন্যথায় আরও সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দেন, যদি তেহরান আলোচনায় ফিরে না আসে, তাহলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো হতে পারে।
ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলেছেন, তেহরানের 'কোনো কারণ নেই' এমন কোনো চুক্তি মেনে চলার যা দেশের স্বার্থে নয়। তিনি আরও মন্তব্য করেন, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা স্ট্রেট অব হরমুজে 'ইরানি ব্যবস্থাপনা' বজায় রাখার ওপর নির্ভরশীল।
সেন্টকমের বরাতে জানা যায়, সর্বশেষ হামলায় ইরানের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস ও গ্রেটার টুনব দ্বীপসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে কমান্ড সেন্টার, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনা লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং তেহরানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়েছে।
এর কিছুক্ষণ পরেই উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন মিত্র দেশগুলো হামলার খবর দেয়। কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের শান্ত থাকার এবং নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ইরানি সামরিক বাহিনীও জানিয়েছে, তারা জর্ডানে মার্কিন যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জ্বালানি সঞ্চয়স্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী কুরাসাও পতাকাবাহী একটি খালি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে অক্ষম করে দিয়েছে। সেন্টকমের দাবি, জাহাজটি ইরানের একটি অবরুদ্ধ বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এই ঘটনায় অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


