২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত শিক্ষার্থী ফারহান ফাইয়াজের সহপাঠী ওয়াসিফ মুনীম আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, ফাইয়াজকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার আইডি কার্ড ব্যবহার করে পরিবারকে ঘটনা জানান তিনি।
ওয়াসিফ মুনীম মুগদা মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার জবানবন্দি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সকালে তিনি আন্দোলনে অংশ নিতে আসাদ গেটের দিকে রওনা হন। সেখানে পৌঁছানোর পর আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা শিক্ষার্থীদের ধাওয়া শুরু করে। দুপুর একটার দিকে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা মারণাস্ত্র নিয়ে তাদের তাড়া করলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের অলিগলিতে আশ্রয় নেয়।
ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের একটি গলির ফুটপাতে বসে থাকার সময় তিনি দেখতে পান, চারজন ব্যক্তি ফারহান ফাইয়াজকে রিকশায় তোলার জন্য নিয়ে আসছে। ফাইয়াজের বুকে গুলি লেগেছিল বলে উল্লেখ করেন ওয়াসিফ। তিনি ফাইয়াজকে তার সহপাঠী হিসেবে চিহ্নিত করেন। ফাইয়াজকে দেখার পর ওয়াসিফ একটি অ্যাম্বুলেন্সের সন্ধান করেন এবং সেটি পেয়ে তাকে ধানমন্ডির সিটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখান থেকে ফাইয়াজকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
সেই সময় ওয়াসিফের হাতে ফাইয়াজের আইডি কার্ড দেওয়া হয়। আইডি কার্ডে থাকা নম্বরে তিনি ফোন করলে ফাইয়াজের বাবা ফোন ধরেন। ওয়াসিফ তখন ফাইয়াজের গুলিবিদ্ধ হওয়ার পুরো ঘটনা বর্ণনা করেন। পরে তিনি ফাইয়াজের আত্মীয়দের কাছে আইডি কার্ড বুঝিয়ে দেন এবং ঘটনার বিবরণ দিয়ে নিজ বাড়ি চলে যান। পরে তিনি জানতে পারেন, ফাইয়াজ শহীদ হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ফাইয়াজের স্মৃতিতে ধানমন্ডির পুরোনো ২৭ নম্বর সড়কের নামকরণ করা হয়েছে ‘শহীদ ফারহান ফাইয়াজ সড়ক’। এই মামলায় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় আন্দোলনকারী ফারহান ফাইয়াজ, মো. মাহিন মিয়া ও মো. রনিকে হত্যা এবং পরদিন ১৯ জুলাই আল শাহরিয়ার হোসেন, মো. রাজু আহমেদ, মাহামুদুর রহমান সৈকত, মো. ইসমাইল, মো. জসিম উদ্দিন ও জোবায়েদ হোসেন ইমনকে হত্যার ঘটনায় মোট ২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদের মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার হয়েছেন—সাবেক আনসার সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন ও যুবলীগের কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী। বাকি ২৪ আসামি পলাতক, যাদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসও রয়েছেন।




