মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এআই মিউজিক জেনারেটর সুনো এবার বিএমজির (BMG) সঙ্গে একটি লাইসেন্সিং চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। শিল্পটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করা এই প্ল্যাটফর্মের জন্য এটি একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি, কারণ এর আগে গত বছর সনি মিউজিকের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তি করেছিল সুনো।
জার্মান মিডিয়া কোম্পানি বার্টেলসম্যানের (Bertelsmann) মালিকানাধীন বিএমজি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মিউজিক রাইটস হোল্ডার। এই চুক্তির আওতায় সুনোর এআই মডেলগুলোকে বিএমজির বিপুল ক্যাটালগের গান ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অনুমতি মিলবে। এর বিনিময়ে বিএমজির শিল্পী ও গীতিকারদের রয়্যালটি প্রদান করা হবে।
সুনোর বিরুদ্ধে এর আগে বেশ কয়েকটি রেকর্ড লেবেল কপিরাইট লঙ্ঘনের মামলা করেছিল। তবে সরাসরি লাইসেন্সিং চুক্তির মাধ্যমে এই ধরনের আইনি জটিলতা এড়ানোর পথে হাঁটছে প্রতিষ্ঠানটি। শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, এআই মিউজিক প্রযুক্তির সঙ্গে কপিরাইট আইনের সমন্বয় ঘটাতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর এক বিবৃতিতে বিএমজি জানিয়েছে, এআই প্রযুক্তির সঙ্গে তাদের শিল্পীদের স্বার্থ রক্ষা করে একটি ন্যায্য কাঠামো তৈরি করাই এই অংশীদারত্বের লক্ষ্য। সুনোর পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, এই চুক্তি তাদের জন্য একটি মাইলফলক, যা প্রযুক্তি ও সঙ্গীত শিল্পের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করবে।
সুনো একটি জনপ্রিয় এআই টুল, যা ব্যবহারকারীদের শুধু টেক্সট কমান্ড দিয়েই সম্পূর্ণ গান তৈরি করতে দেয়। তবে এর জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সমালোচনাও কম নেই। অনেকে মনে করেন, এআই-নির্মিত সঙ্গীত শিল্পীদের বাণিজ্যিক স্বার্থে হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই নতুন চুক্তি সেই উদ্বেগ কিছুটা কমাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চুক্তির আর্থিক বিবরণ অবশ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রের খবর, এ ধরনের চুক্তিতে রয়্যালটি হারের পাশাপাশি অ্যাডভান্স পেমেন্টের বিষয়টিও জড়িত থাকে। বিএমজির বিশ্বব্যাপী শিল্পী তালিকায় রয়েছেন ব্রুনো মার্স, মাইলস সাইরাস, এবং কে-পপ ব্যান্ড ব্ল্যাকপিংকের মতো নাম।
সুনোর এই উদ্যোগকে এআই মিউজিক শিল্পের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন অনেকে। কারণ, লাইসেন্সিং চুক্তি আইনি ঝুঁকি কমায় এবং শিল্পীদের জন্য রয়্যালটির নিশ্চয়তা দেয়। অন্যদিকে, এআই-নির্মিত সঙ্গীতের গুণগত মান ও সৃজনশীলতা নিয়ে বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি।




