সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (যা আগে টুইটার নামে পরিচিত ছিল) ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার ঠেকাতে একটি অভিনব পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের মালিক ও প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক সম্প্রতি এক পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই একটি নতুন ফিচার চালু করা হবে। এই ফিচারের আওতায়, যখন কোনো ব্যবহারকারী একটি পোস্টে লাইক, শেয়ার, উদ্ধৃতি বা মন্তব্যের মাধ্যমে জড়িত হন, এবং পরবর্তীকালে ওই পোস্টটিতে কমিউনিটি নোটস ব্যবহার করে সংশোধনী বা সঠিক তথ্য যুক্ত করা হয়, তখন সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীকে একটি স্বয়ংক্রিয় ডাইরেক্ট মেসেজ পাঠিয়ে বিষয়টি অবহিত করা হবে। মাস্কের ভাষ্য অনুযায়ী, কমিউনিটি নোটস সিস্টেমের সাথে একটি স্বয়ংক্রিয় বট সংযুক্ত করা হবে, যা পূর্বে ওই পোস্টে সম্পৃক্ত ব্যবহারকারীদের সনাক্ত করে তাদের বার্তা প্রেরণের কাজ করবে।

তবে এই নতুন ব্যবস্থা চালুর সঠিক সময়সীমা এখনো নির্ধারণ করেননি মাস্ক। এছাড়াও, ঠিক কী ধরনের ব্যবহারকারী সম্পৃক্ততা (ইন্টারঅ্যাকশন) বার্তা পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করবে, সে বিষয়েও কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। যেমন, শুধুমাত্র লাইক দেওয়াই কি যথেষ্ট হবে, নাকি শেয়ার বা রিপোস্ট করলেই কেবল নোটিফিকেশন পাঠানো হবে—এ নিয়ে ব্যাখ্যা না থাকায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

প্রযুক্তি পর্যবেক্ষকদের অভিমত, ভুল তথ্য প্রতিরোধে এই উদ্যোগটি আদৌ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তাদের মতে, বাস্তবিক পরিস্থিতিতে অনেক সময় কোনো পোস্টে কমিউনিটি নোটস যুক্ত হওয়ার মুহূর্তের আগেই সেটি কয়েক লক্ষ ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছে যায়। ফলে পরবর্তী সময়ে সংশোধনীসহ বার্তা গেলেও, ব্যবহারকারীরা সেই বার্তা দেখবেন কি না এবং আগের শেয়ার বা লাইক প্রত্যাহার করবেন কি না—সেটি সম্পূর্ণরূপে অনিশ্চিত। এই কারণে সংশোধনী বার্তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নবোধক চিহ্ন থেকেই যাচ্ছে।