সম্প্রতি পৃথিবীর ইতিহাসে এক অভিনব অধ্যায় যুক্ত হলো—সমুদ্রের নিচে স্থায়ীভাবে বসবাসের উপযোগী কৃত্রিম আবাসস্থল তৈরি করা হয়েছে। ফ্লোরিডা কিজ ন্যাশনাল মেরিন স্যাঙ্কচুয়ারির টেনেসি রিফের পানির ১৭ মিটার নিচে ডিপ (DEEP) প্রতিষ্ঠিত ‘ভ্যানগার্ড’ নামের এই স্টেশনটি একযোগে চারজন ক্রুকে থাকার ব্যবস্থা করতে সক্ষম।
এটি মূলত একটি বড় ডিকম্প্রেশন চেম্বার যা ভেতরের বায়ুচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এর বিশেষায়িত নকশার কারণে স্যাচুরেশন ডাইভিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ডুবুরিরা দীর্ঘ সময় পানির নিচে কাটাতে পারেন। একটি বিশেষ আম্বিলিক্যাল পাইপ ভ্যানগার্ড থেকে বাতাস সরবরাহ করে, যা ব্যবহার করে ডুবুরিরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাইরে কাজ করতে সক্ষম।
স্টেশনটির নিচের দিকে রয়েছে ‘মুন পুল’ নামের একটি খোলা প্রবেশদ্বার। ভেতরে ও বাইরের চাপ সমান থাকায় এটি খোলা থাকলেও পানি ভেতরে প্রবেশ করে না। ডুবুরিরা সরাসরি এখান থেকে সাগরে ডুব দিতে পারেন। ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে সংযোগকারী একটি ভাসমান বয়ার মাধ্যমে বাতাস, বিদ্যুৎ ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ সরবরাহ করা হয়। এছাড়া অভ্যন্তরীণ জলের ট্যাংক এবং বর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও রয়েছে।
নাসায় প্রশিক্ষিত অ্যাকুয়ানট ডন কার্নাগিস এই প্রকল্পের প্রথম ক্রুদের একজন। তিনি বলেন, সমুদ্রের গভীর থেকে নেওয়া নমুনা ওপরে আনলে চাপের পরিবর্তনে তার কোষীয় গঠন বদলে যায়, কিন্তু ভ্যানগার্ডের অভ্যন্তরে বসেই সে নিয়ে গবেষণা চালানো যাবে। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে কেবল বিজ্ঞানীরাই নন, বরং শিল্পী, শিক্ষার্থী ও নীতিনির্ধারকদেরও সমুদ্রের নিচের জীবন সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দিতে এখানে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ভ্যানগার্ডকে শুধু গবেষণার জন্যই ব্যবহার করা হচ্ছে না, এর সঙ্গে বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষামূলক স্বার্থও জড়িত। ডিপের অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে মহাকাশ প্রযুক্তি, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এবং প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট কোম্পানি। এই সংস্থাটি ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং এর পরবর্তী প্রকল্প ‘সেন্টিনেল’ ২০২৭ সালের মধ্যে চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেন্টিনেল যেকোনো মহীসোপানে স্বল্পমেয়াদি কিংবা স্থায়ীভাবে মানববসতি স্থাপনের সক্ষমতা রাখবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সমুদ্রের তলদেশে মানুষের উপস্থিতি ও গবেষণা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।




