কানাডায় স্থায়ী বসবাসের জন্য মা-বাবা, দাদা-দাদি ও নানা-নানিদের স্পনসর করার জনপ্রিয় কর্মসূচি ‘প্যারেন্ট অ্যান্ড গ্র্যান্ডপ্যারেন্ট প্রোগ্রাম’ (পিজিপি) আপাতত বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি) জানিয়েছে, সিস্টেমের ওপর চাপ হ্রাস এবং আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা স্বাভাবিক পর্যায়ে আনার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রোগ্রামটির সূচনা হয়েছিল কানাডার স্থায়ী বাসিন্দা ও নাগরিকদের মানসিক সহায়তা দিতে এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দিতে। কানাডার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৩ শতাংশই প্রথম বা দ্বিতীয় প্রজন্মের অভিবাসী হওয়ায় পরিবার পুনর্মিলনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে অতীতেও বিভিন্ন সময় নানা কারণে প্রোগ্রামটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল এবং পরে পুনরায় চালু করা হয়েছিল। বর্তমান সিদ্ধান্ত সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে জানিয়েছে আইআরসিসি।

বর্তমানে প্রোগ্রামটির অধীনে প্রায় ৬০ হাজার ৫০০টি আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিপুল সংখ্যক আবেদনের কারণে অপেক্ষার সময় গড়ে ৩৩ মাসে দাঁড়িয়েছে, আর কুইবেক প্রদেশে তা ৬৬ মাস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। চাহিদার তুলনায় সরকারি কোটার স্বল্পতার কারণেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য। স্পনসর হওয়ার জন্য প্রধান শর্ত হলো আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণ। একজন স্পনসরকে ন্যূনতম আয়সীমা বজায় রাখতে হয় এবং গত তিন বছরের আয়কর বিবরণীসহ অন্যান্য আর্থিক দলিল কঠোরভাবে যাচাই করা হয়। এর মাধ্যমে সরকার নিশ্চিত করে যে স্পনসর করা ব্যক্তিরা কানাডার সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হবেন না।

এই স্থগিতাদেশ ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে। তবে যারা তাঁদের স্বজনদের কানাডায় আনতে আগ্রহী, তারা বিকল্প হিসেবে ‘সুপার ভিসা’ ব্যবহার করতে পারেন। এই ভিসার আওতায় মা-বাবা ও দাদা-দাদিরা একবারে পাঁচ থেকে সাত বছর পর্যন্ত কানাডায় অবস্থান করতে পারবেন। উল্লেখ্য, এবারের সিদ্ধান্তের কারণে ২০২৬ ও ২০২৭ সালে ১৫ হাজার জনকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রায় কোনো প্রভাব পড়বে না বলে নিশ্চিত করেছে আইআরসিসি। দূর প্রবাসে পরিবার পুনর্মিলনের এই খবর পাঠকেরা ই-মেইলে পাঠাতে পারেন।