বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকায় শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬ দশমিক ০৯ ডলারে। পূর্ববর্তী দিনের তুলনায় এই দাম ১ দশমিক ৪৫ ডলার বেশি, আর এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ১৬ ডলার বা ২২ দশমিক ৮১ শতাংশ বেশি। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ ও চাহিদার মৌলিক ভারসাম্যই মূল নির্ধারক হলেও ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ ও যুদ্ধের আশঙ্কা তেলের দামের গতিপথ দ্রুত পরিবর্তন করতে পারে।
বর্তমান দামের পেছনে বড় কারণ হিসেবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনাকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি দিয়ে তেলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে বলে সম্প্রতি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর আরও বোমাবর্ষণের হুমকি দিয়েছে, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় গভীর শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। ওপেক প্লাসের সিদ্ধান্ত, মার্কিন শেল তেল উৎপাদন এবং বিভিন্ন দেশের নীতি—সব মিলিয়েই তেলের দাম ওঠানামা করে।
তেলের দাম বাড়লে পাম্পে পেট্রোলের দামও তার প্রভাব পড়ে। তবে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলে জ্বালানির দাম সাধারণত ধীরে কমে, যাকে 'রকেটস অ্যান্ড ফাদার্স' প্রবণতা বলা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত (এসপিআর) জরুরি মুহূর্তে সরবরাহ ঘাটতি কমাতে ও দাম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, তবে এটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নয়।
তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দামের মধ্যে সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। তেলের দাম বেড়ে গেলে অনেক শিল্প প্রাকৃতিক গ্যাসে স্যুইচ করে, যা গ্যাসের চাহিদা ও দাম বাড়িয়ে দেয়। ঐতিহাসিকভাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম অত্যন্ত অস্থিতিশীল ছিল—১৯৭০-এর দশকের শুরুর দিকে ইয়ম কিপুর যুদ্ধের সময় আরব দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞায় দাম লাফিয়ে বাড়ে, ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি চাহিদা কমে ও অ-ওপেক দেশগুলোর উৎপাদন বাড়ায় দাম পড়ে যায়, ২০০৮ সালে বৈশ্বিক আর্থিক সঙ্কটের আগে দাম চূড়ায় ওঠে এবং পরে ধসে পড়ে। ২০২০ সালে কোভিড-১৯ লকডাউনে চাহিদা তলানিতে গিয়ে দাম ২০ ডলারের নিচে নেমে যায়।
মার্কিন শেল তেল উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ বাড়ায় দামের চাপ কিছুটা কমে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন আর্কটিক ন্যাশনাল ওয়াইল্ডলাইফ রিফিউজে তেল ও গ্যাস লিজিং পুনরায় চালু করেছে, যা ভবিষ্যতে সরবরাহ আরও বাড়াতে পারে। তেলের দাম মূল্যস্ফীতির ওপরও প্রভাব ফেলে—পরিবহন ও জ্বালানি খরচ বাড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভূ-রাজনৈতিক সংকট না কমলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।




