ওয়াল স্ট্রিটের চাকরির বাজারে প্রবেশের জন্য আইভি লিগ ডিগ্রিই শেষ কথা নয়, বরং কোনো ভarsity দলের সতীর্থের উপস্থিতি প্রার্থীর চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। হার্ভার্ড, ডিউক ও হোয়ার্টন স্কুলের গবেষকদের এক নতুন সমীক্ষা এ তথ্য উঠে এসেছে। জাতীয় অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর (এনবিইআর) ওই গবেষণায় ১৯৫০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আইভি লিগের ১ লাখ ২০ হাজার ৩০৬ জন স্নাতকের চাকরির তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।
গবেষক দলটি—পল গম্পার্স, জর্জ হু, উইল লেভিনসন ও সাচিন শ্রীবাস্তব— দেখেছেন, ওয়াল স্ট্রিটের নিয়োগকর্তাদের দীর্ঘদিনের একটি ধারণা সঠিক। তাদের দাবি ছিল, কলেজে ক্রীড়াবিদ হওয়া চাকরিতে একটি বাড়তি সুবিধা দেয়। তবে গবেষণাটি আরও সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরেছে যে, দলগত বন্ধনটি ডিগ্রির চেয়েও শক্তিশালী ক্যারিয়ার চালিকাশক্তি। হোয়ার্টনের ডক্টরেট শিক্ষার্থী ও গবেষণাপত্রটির সহ-লেখক শ্রীবাস্ট বলেন, "বিস্তৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে কম কাজে আসে; আসল টান আসে বার্সিটি দলের মতো নিবিড় যৌথ অভিজ্ঞতা থেকে। আমার মনে হয়, পুরোনো ছেলেদের ক্লাবের চেয়ে এটা অনেকটা দলের সদস্য তালিকার মতো।"
গবেষণাপত্রটি একটি বৃহত্তর গবেষণা কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়। পূর্ববর্তী একই ধরনের এক গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, ক্রীড়াবিদেরা অন-অ্যাথলেটদের চেয়ে বেশি আয় করেন এবং সি-লেবেলের পদে পৌঁছানোর হারও তাদের বেশি। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক গম্পার্স বলেন, 'আপনার ক্যারিয়ারের সাফল্য অনেকখানি নির্ভর করে যাকে অর্থনীতিবিদরা মানব পুঁজি ও সামাজিক পুঁজি বলেন তার ওপর।' তিনি ব্যাখা করে, এই নতুন গবেষণাটি মূলত সামাজিক পুঁজির সেই মাধ্যমটি অন্বেষণ করে, যা কোনো জীবনবৃত্তান্তে ফুটে ওঠে না।
গবেষণায় 'সতীর্থ গুণক' নামে একটি চমকপ্রদ ধারণা উঠে এসেছে। দেখা গেছে, কেবল একই বিশ্ববিদ্যায়ে পড়েছেন এমন কেউ কর্মরত থাকলে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ৪.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। একই খেলা খেলা কিন্তু ভিন্ন বিশ্ববিদ্যায়ের কেউ থাকলে তা বাড়ে ১৬.৪ শতাংশ। কিন্তু একই দলের একজন প্রাক্তন সতীর্থ যদি ওই প্রতিষ্ঠানে আগে থেকে কাজ করেন, তাহলে নতুন খেলোয়াড়ের চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ১৯৩.৭ শতাংশ বেড়ে যায়, যা মূল হারের প্রায় তিন গুণ। গবেষকেরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, দলীয় পরিচয়ই 'প্রা সব প্রভাব বহন করে'।
আরও মজার তথ্য হল, অনেক আগে খেলা হয়ে যাওয়া কোনো শিক্ষার্থীর প্রভাবও প্রায় সমান। যে ক্রীড়াবিদের ছাত্রজীবনের অনেক আগের কোনো অ্যালামনাই একই দলে খেলেছিলেন, তিনিও ওই নতুন প্রার্থীটি চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা ১৭১.৯ শতাংশ বাড়িয়ে দিতে পারেন। গম্পার্স মনে করেন, এই দুই ধরনের সনীয়দের প্রভাব ভিন্ন ভিন্নভাবে কাজ করে। সামপ্রতিক সত্থীর্দের ভূমিকা মূলত তথ্যের আদান-প্রদানের পথ হিসেবে কাজ করে, আর পুরোনো অ্যালামনাইদের ভূমিকা হল নিয়োগদাতা ও এইচআর বিভাগের চোখে ওই দলিয়তার প্রার্থীর প্রতি মূল্যায়ন বাড়িয়ে দেওয়া।
এই প্রভাব সরাসরি অর্থ খাতের চিত্র স্পষ্ট করে। নমুনায় আইভি লিগের অ্যাথলেটদের হার মাত্র ৫% হলেও, অর্থ খাতের প্রথম চাকরিগুলোর মধ্যে ৭.০৮% ই চলে গেছে ক্রীড়াবিদদের কাছে। মরগান স্ট্যানলি ও ব্যাংক অফ অ্যামেরিকা শীর্ষ স্থানে ছিল।
এই আবিষ্কার উচ্চাকাঙী পেশার জগতে অভিজাত বলয় কিভাবে প্রবেশাধিকার সীমিত করে, তা নিয়ে বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করে। ফরচুন ম্যাগাজিন ওয়াল স্ট্রিটের সংস্কৃতির সঙ্গে খেলাধুলার এই গভীর সংমিশ্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। যেমন, গোল্ডম্যান স্যাক্স তার প্রাইভেট ওয়েলথ বিভাগের অধীনে একটি বিশেষ ক্রীড়া ও বিনোদন গ্রুপ গঠন করেছিল। অন্যদিকে কিছু শীর্ষ নির্বাহী আবার ডিগ্রির প্রতি নির্ভরতা কমিয়ে অন্য দক্ষতা খোঁজার কথা বলছেন।
গম্পার্স এই ফলাফলকে কেবল নেটওয়ার্কের কারসাজি হিসেবে না পড়ার পরামর্শ দেন। তার বক্তব্য, 'খেলাধুলা থেকে নিয়মানুবর্তিতা, লক্ষ্য নির্ধারণ ও ব্যর্থতার মোকাবিলা করার মতো অনেক কিছু শেখা যায়, যা ক্লাসরুমে শেখা কঠিন। নিয়োগের সময় ক্রীড়াবিদরা যে বাড়তি গুরুত্ব পান, তার একটি অংশ এই ধারণা থেকেই আসে যে, তাদের ব্যবসা বা ফিনান্সের উপযোগী দক্ষতা আছে— নেটওয়ার্কের কারণে নয়।'




