একটি লাইভ নিলাম অ্যাপের কল্যাণে জেনারেশন জেডের তরুণ উদ্যোক্তারা মাসে ২ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ২ কোটি টাকা) পর্যন্ত আয় করছেন। লন্ডনের স্টার্টআপ 'টিল্ট' একটি লাইভস্ট্রিম মার্কেটপ্লেস তৈরি করেছে, যেখানে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে নিলাম পরিচালনা করেন বিক্রেতারা এবং স্নিকার্স, ডিজাইনার পোশাক, সৌন্দর্য্য পণ্য, ইলেকট্রনিক্স ও সংগ্রহযোগ্য সামগ্রীর মতো পণ্যে দর হাঁকেন দর্শক-ক্রেতারা। স্থির পণ্য তালিকা দেখার পরিবর্তে ক্রেতারা সরাসরি বিক্রেতার সাথে মতবিনিময় ও প্রশ্ন করার সুযোগ পান এবং দ্রুতগতির নিলামে প্রতিযোগিতা করেন।
এই ধারণা ইতোমধ্যেই এক নতুন ধরণের তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি করছে। সহ-প্রতিষ্ঠাতা নীল শাহ ফরচুন ম্যাগাজিনকে বলেন, "আমাদের একজন ১৭ বছর বয়সী ব্যবহারকারী ছিল, যে মূলত তার দাদীর বেডরুম থেকে ব্যবসা শুরু করে মাত্র কয়েক মাসে তার পুরো কার্যক্রমকে এক লাখ ডলারের উপরে নিয়ে গেছে।" তিনি মন্তব্য করেন, "এটাই প্রমাণ করে যে আপনি এমন কিছু নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছেন যা মানুষকে শূন্য থেকে শীর্ষে পৌঁছে দিতে পারে।" ম্যাডি নামের একজন ২২ বছর বয়সী বিক্রেতা স্বাস্থ্যগত জটিলতা সত্ত্বেও প্ল্যাটফর্মটিকে পূর্ণকালীন ব্যবসায় রূপ দিয়েছেন। তিনি বধির এবং ফাইব্রোমায়ালজিয়ায় আক্রান্ত। সহ-প্রতিষ্ঠাতাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে পাঁচ অঙ্কের ঊর্ধ্বসীমায় মাসিক বিক্রির পর জুন মাসে ম্যাডির আয় এক লাখ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এই সাফল্যের ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়। কোম্পানিটির বক্তব্য অনুযায়ী, আরেকজন স্নিকার বিক্রেতা মাসে প্রায় ২ লাখ টাখ ৬০ হাজার ডলারের পণ্য বিক্রি করেন। এই বিক্রেতারা বৈশ্বিক বাজারকে কাজে লাগাচ্ছেন এবং তারা সরাসরি সম্প্রয়োগে যে কোনো কিছু উপস্থাপন করলেই তাতে দর ওঠা শুরু হয়।
এই অ্যাপের উত্থান সামাজিক বাণিজ্যর সেই বিস্তৃত পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি, যেখানে ক্রমশ বিনোদন ও ক্রয়-বিক্রয় একীভূত হচ্ছে। এশিয়ায় গত কয়েক বছর ধরে লাইভস্ট্রিম বাণিজ্যের বিস্ফোরক প্রবৃদ্ধি ঘটলেও পশ্চিমা বাজারগুলোতে এই মডেলটি ধীরে গৃহীত হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়া-ভিত্তিক লাইভশপিং অ্যাপ হোয়াটনটের সাথে এই অ্যাপটি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গতি সৃষ্টি করছে। হোয়াটনট এশিয়ার বাইরের সবচেয়ে বড় লাইভশপিং মার্কেটপ্লেসগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। টিল্টের মতো হোয়াটনটও মনে করে যে নিলাম এবং তার সৃষ্ট জরুরি বোধটাই মূল ভিত্তি। সহ-প্রতিষ্ঠাতা অভিনবন থানেন্দ্রণ ফরচিউনকে বলেন, "নিলাম ফরমেট কতটা শক্তিশালী তা অবাক করা বিষয় ছিল। এর আগে ইবের নিলাম ছিল, কিন্তু সেগুলো তেমন উত্তেজক ছিল না। আর এখানে, নিলামে ক্রেতাদের অংশগ্রহণ ছিল অবিশ্বাস্য।"
প্রথম ধারণার সুত্রপাত কোভিড-১৯ মহামারীর সময়, যখন স্থানীয় দোকানগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। থানেন্দ্রণ জানান, তিনি লোকডাউনের সময়ে দোকানগুলোকে পরিচালিত রাখতে একটি লাইভস্ট্রিম পদ্ধতির কথাই ভেবেছিলেন। তিনি বলেন, "আমাদের মনে হলো, দোকানেরা তাদের ভেতর থেকে সরাসরি সম্প্রচার করতে পারেন না কেন, লোকজনকে তাঁদের কী আছে তা দেখান এবং তারপর লোকজন এসে সেটি নিয়ে যাবে?" সময়ের সাথে তারা উপলদ্ধি করেন যে এই ধারণা কেবল দোকানগুলোতেই সীমাবদ্ধ নয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে টিল্টের যাত্রা শুরু হয়। বতনানে এই মার্কেটপ্লেস পোশাক, স্নিকার্স, বিলাসবহুল স্টরী, ক্রয়কার্ড, ক্রীড়া স্মারক, ঘড়ি, সৌন্দর্য্য পণ্য, খাবার ও পানীয় এবং ক্লিয়ারেন্স পণ্যসহ বিচিত্র ধরণের লাইভ নিলাম আয়োজন করে। কিছু বিক্রেতা তরলীকৃত পণ্য তায় বিশেষজ্ঞ, এবং তারা মাইক্রোওয়েভ, ফ্রিজ ও এয়ার ফ্রায়ারের মতো সরঞ্জাম যা অন্যথায় আবর্জনায় ফেলা হতো, তা বিক্রয় করেন।
প্রতিষ্ঠাতাদের মতে, প্রতিদ্বী হোয়াটনটের থেকে নিজেদের আলাদা করার প্রধান কৌশল হলো প্লাটফর্মে নির্মিত এআই সিস্টেম। অ্যাপটি কৃত্রিম মদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে লাইভস্ট্রিম থেকে পণ্য স্ক্যান, অনুসন্ধান ও তালিকাভুক্ত করে, যাতে ১০ লাখের বেশিগ্রাহক খুঁজে নিলামে অংশ নিতে পারে। শু বলেন, "এটি এখন একাধিক স্তরে এআই-- মাল্টিমোডাল, মাল্টি-লেয়ার-- যেখানে অসংখ্য ভিন্ন ভিন্ন এআই মডেল একটি চূড়ান্ত ফলাফল তৈরির জন্য পরস্পরের ওপর কাজ করে।" তার ভাষ্য, "এমন মডেল আছে যা পণ্যের অবস্থা বোঝে, দাম বোঝে, ব্র্যান্ড বুঝে।" শু জানান, সিস্টেমটি প্রায় ৯০ শতাংশ সময় সঠিকভাবে পণ্য চিহ্নিত করতে পারে। নিলাম শুরুর পূর্বে ত্রুটিগুলো বিক্রেতারা সম্পাদন করতে পারেন, এবং সেই সংশোধনগুলি ভবিষ্যতের এআই মডেলগুলোকে আরও উন্নত করতে ব্যবহার করা হয়। প্রতিষ্ঠাতারা জোর দিয়ে বলেন যে এই টুলগুলো অভিজ্ঞ পুনর্বিক্রেতাদের জন্য নয়, বরং যে কাউকে প্ল্যাটফর্মে একটি ব্যবসা গড়তে সাহায্য করে। তবে এআই ধারা নির্মাণ করা সহজ ছিল না। শাহু বলেন, "সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার ছিল পণ্য তালিকাভুক্ত করা বিক্রেতারা কতটা অপছন্দ করে।"
টিল্ট সম্প্রতি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে, যাদের মধ্যে আছেন ব্যাকারটন ক্যাপিটাল, আরলিবার্ড, সিডক্যাম্প, টিকিউ ভেনচার্স এবং সর্বশেষ ভিন্টেটেড ভেনচার্স। প্রতিষ্ঠাতারা মনে করেন লাইভশপিং কেবল সংগ্রাহক ও পুনর্বিতরণের সম্প্রদায়ের মধ্যে আবদ্ধ থাকবে না। তারা প্রত্যাশা করেন, ভিডিওই ই-কমার্সের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠবে। থানেন্দ্রণ বলেন, "আমাদের মনে হয় যে বাণিজ্যের পুরো ভবিষ্যৎই ভিডিও আর লাইভস্ট্লিমের দিকে পরিবর্তনত হবে। আপনি একজন ঐতিহ্যবাহী খুচরা বিক্রেতা হোন বা পুনর্বিক্রয়ের মার্কেটপ্লেস, মাধ্যমটি বদলাবেই।"




