যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বিলাসবহুল বাসভবনের ওপর আরোপিত 'পাইড-আ-তের' কর বাড়তি এক ভূমিকা নিচ্ছে। এটি রাজ্যের বাজেট ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি এখন এক ধরনের অনানুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় নিরীক্ষক হিসেবে কাজ করছে, যার ফলে দীর্ঘদিন ধরে কর ফাঁকি দেওয়া অনেকেই চাপে পড়েছেন। গভর্নর ক্যাথি হোচুলের প্রশাসন এই করের মাধ্যমে উন্মোচিত সম্ভাব্য প্রতারণার তদন্ত শুরু করেছে।

এই করটি এমন বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে চালু হয়েছে, যারা নিউ ইয়র্ক সিটির বাইরে স্থায়ী বসবাসের দাবি করে শহরের বিলাসবহুল সম্পত্তি দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে রাখেন। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, কেউ যদি নিউ ইয়র্ক সিটির বাসভূমিতে বসবাসের সকল সুবিধা ভোগ করেন, কিন্তু আয়কর বা গাড়ির নিবন্ধন কম খরচের লোভে রাজ্যের বাইরে দাখিল করেন, তাহলে তিনি কর ফাঁকির অপরাধে অপরাধী বিবেচিত হতে পারেন। এই কর বাধ্যবাধকতার কারণে এখন দুইটি পথ খোলা: হয় নিজের দ্বিতীয় বাড়ির দাবি বহাল রেখে পাইড-অ-তের কর পরিশোধ করতে হবে, নয়তো স্বীকার করে নিতে হবে যে শহরটিই মূল বসতি এবং সেই অনুযায়ী নিউ ইয়র্কের উচ্চ হারের আয়কর ও গাড়ির বীমার খরচ বহন করতে হবে।

গভর্নরের কার্যালয়ের র্যাপিড রেসপন্স বিভাগের পরিচালক জেন গুডম্যান ফরচুন ম্যাগাজিনকে জানান, "পরিশ্রমী নিউ ইয়র্কবাসীরা যে কর প্রদান করেন তা দিয়ে আমাদের শিক্ষা, সড়ক, গণপরিবহন ও জননিরাপত্তার অর্থায়ন হয়। পাইড-অ-তের কর নিশ্চিত করার জন্য নকশা করা হয়েছিল যে যারা বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির সামর্থ্য রাখেন কিন্তু নিউ ইয়র্কের আয়কর দেন না, তারাও যাতে এই নগরীতে অবদান রাখেন।" তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, "যদি আপনি পদ্ধতিগত ফাঁকি দিতে অনিবাসী দাবি করে থাকেন, তাহলে এখনই স্বীকার করার সময়—অথবা আমাদের কর ও অর্থ বিভাগ আপনার ন্যায্য অংশ নেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নেবে।"

নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির একজন মুখপাত্র ম্যাট রাউশেনবাক এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, "মেয়র মামদানি এই কর পাস করতে গভর্নর হোচুল এবং আলবানির আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন, যাতে আমরা পরিচ্ছন্ন পার্ক, নিরাপদ সড়ক এবং পুরো শহরজুড়ে অন্যান্য জরুরি প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে পারি।" তিনি আরও বলেন, যারা কর প্রদানের যোগ্য নন, তাদের ছাড় পেতে সহায়তা করাও প্রশাসনের লক্ষ্য।

গত এপ্রিলে যৌথভাবে এই করের প্রস্তাব করা হয়, যা নিউ ইয়র্ক সিটিতে ৫ মিলিয়ন ডলার বা ততোধিক মূল্যের বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়িগুলোর জন্য বার্ষিক সারচার্জ নির্ধারণ করে। এর মাধ্যমে শহরটির বার্ষিক কমপক্ষে ৫০০ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয়ের প্রত্যাশা করা হয়। সেই সময় হোচুল বলেছিলেন, "আপনার যদি ৫ মিলিয়ন ডলারের দ্বিতীয় বাড়ি থাকে যা বছরের অধিকাংশ সময় খালি পড়ে থাকে, তাহলে অন্য প্রতিটি নিউ ইয়র্কবাসীর মতো অবদান রাখার সক্ষমতা আপনার আছে।" মামদানি এই করকে কর দিবসের একটি ভিডিওতে উন্মোচন করে বলেন, এটি নিশ্চিত করার একটি উপায় যে ধনীরা তাদের প্রাপ্য অর্থ প্রদান করছেন।

এখন এই কর শুধু বাজেট ঘাটতি কমাচ্ছে না, বরং ফরচুনের এক প্রতিবেদন অনুসারে এক অনভিপ্রেত নিরীক্ষকের ভূমিকা পালন করছে। ছাড়ের আবেদন প্রক্রিয়ায় কার্যালয়টি সরাসরি তথ্য বিশ্লেষণ করছে, কেননা যে মালিকরা কর থেকে অব্যাহতি চান তাদের প্রমাণ করতে হবে যে প্রশ্নবিদ্ধ সম্পত্তিটিই তাদের প্রকৃত বসতি। আর এই তথ্যই উল্টো দিকটি উন্মোচন করতে পারে—যে ব্যক্তি পুরো সময় নিউ ইয়র্ক শহরেই বসবাস করেন, কিন্তু কর ফাঁকি দিতে অন্যস্থানে নথি দাখিল করেছেন।

কর্তৃপক্ষের সূত্রমতে, গভর্নরের কার্যালয়ের এই নতুন করের ফলে উদঘাটিত সম্ভাব্য কর জালিয়াতি খতিয়ে দেখছে। নিউ ইয়র্কের কর ও অর্থ বিভাগ ইতিমধ্যে রাজ্যের বাসিন্দাদের নিয়মিত নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। কর ফাঁকির উভয় পথের জরিমানা বেশ কঠোর। বৈধ নিউ ইয়র্ক বিমা ছাড়া গাড়ি চালালে দেড় হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা ও লাইসেন্স ফেরাতে সাড়ে সাতশো ডলার দেওয়ার বিধান আছে। প্রতারণামূলক নিবন্ধন বা নম্বর প্লেটের শাস্তি আরও কঠোর: প্রথম অপরাধ মিনিড়ার, আর দ্বিতীয় বার দশ বছরেই মধ্যে ধরাধরে ই ক্লাস ফেলনি, যাতে চার বছর কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার ডলার বা প্রতারণা থেকে অর্জিত অর্থের দ্বিগুণ জরিমানার বিধান আছে।

আয়কর আবাসিক জালিয়াতির ক্ষেত্রে, কর ফাঁকির জন্য ব্যক্তিকে ১০ হাজার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ২০ হাজার ডলার জরিমানা। গুরুতর অপরাধে ম ২৫ বছর পর্যন্ত জেল এবং ১ লাখ ডলার বা অপরিশোধিত করের দ্বিগুণের মধ্যে যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অর্থ জরিমানা হতে পারে। এই করের প্রয়োগ শুরুতেই বিতর্কিত ছিল। অনেকে এটিকে ব্যক্তির নাম-ঠিকানা ফাঁসের পদক্ষেপ বলে আখ্যা দেন, যদিও দেশের অধিকাংশ শহরের মতোই নিউ ইয়র্কে সম্পত্তি করের নথি ১৮৩০ সাল থেকেই উন্মুক্ত। একটিপূর তালিকায় প্রায় ৯৬০,০০০ ঠিকানা অন্তর্ভুক্ত হলেও, নগর কর্তৃপক্ষ চিঠি পাঠিয়েছিল মাত্র ১৭,০০০ বাড়িতে, যার মধ্যে প্রায় ১০,০০০ জন এই করের আওতাভুক্ত। এনওয়াই১ এর সাংবাদিকের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত প্রাপকদের মধ্যে প্রায় ৭,০০০ জন ছাড়ের আবেদন শুরু করেছেন এবং ২,৬০০ জন তা জমা দিয়েছেন।