ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে আজ নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপীয় শক্তি স্পেন। দুই দলের কৌশলগত দিকনির্দেশনাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
লিওনেল স্কালোনির দল একক কোনো কৌশলে বাঁধা নয়। ম্যাচের চাহিদা বুঝে তারা নিজেদের ছক পাল্টায়। প্রতিপক্ষের প্রেসিং ভাঙতে ছোট ছোট পাসের সমন্বয় ব্যবহার করে, কখনো মাঠের এক পাশে খেলোয়াড় জড়ো করে অন্য পাশে ফাঁকা জায়গা সৃষ্টি করে। আর্জেন্টিনার বড় সামর্থ্য হলো চাপের মধ্যেও অল্প জায়গায় বল ধরে রাখার দক্ষতা। খেলোয়াড়রা নিয়মিত অবস্থান বদলান, যা প্রতিপক্ষের রক্ষণকে বিচলিত করে দেয়। বল দখলে না থাকলে দল প্রয়োজনমতো নিচু ব্লক গড়ে রক্ষণ সারে, শুধু লিওনেল মেসি সামনে অপেক্ষা করেন পাল্টা আক্রমণের জন্য। স্কালোনির মূল পরিকল্পনাই হলো মেসিকে রক্ষণের কষ্ট থেকে দূরে রেখে আক্রমণের কাজে সতেজ রাখা। মেসিকে সাধারণত মাঝমাঠের কাছে রাখা হয় যাতে বল পুনরুদ্ধারের পর দ্রুত গতিতে আক্রমণ সাজানো যায়।
এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ১৯ গোলের ৮টি মেসির পায়ে এসেছে, আর ১২ গোলের সৃষ্টিতে তার প্রত্যক্ষ অবদান ছিল। দল যখনই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে, মেসির দিকেই তাকিয়ে থেকেছে আর মেসি প্রতিবারই পার পেয়ে গেছেন। তবে এনজো ফার্নান্দেজ, লাউতারো মার্তিনেজ কিংবা রদ্রিগো দি পলের অবদানও কম নয়—মেসির বিশ্বস্ত সাথী হিসেবে তারাও বিশ্বকাপে দলের কাজে লেগেছেন।
অন্যদিকে লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেনের প্রধান হাতিয়ার বল নিয়ন্ত্রণ। বল নিজেদের কাছে রাখার পাশাপাশি বল হারালে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে তা ফিরিয়ে নেওয়ার পারদর্শিতা তাদের বিশেষত্ব। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালেই এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ দেখা গেছে, সেদিন স্পেনের দ্রুত প্রেসিং কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলেকে নড়তে দেয়নি। পুরো ম্যাচে ফ্রান্স কোনো জায়গাই পায়নি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও একই কৌশলে তাদের আক্রমণের গতি কমিয়ে দিতে চাইবে স্পেন।
স্পেনের খেলোয়াড়রা ছোট ছোট পাসে ধৈর্য ধরে প্রতিপক্ষের রক্ষণে সুযোগ খোঁজেন। বিশেষ করে ফুলব্যাক আর সেন্টারব্যাকের মাঝের ফাঁকা জায়গা দিয়ে আক্রমণে ওঠাই তাদের কৌশল। মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা রদ্রি খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেন আর নিজেও রক্ষণ সামলান। পেদ্রি ও দানি ওলমো হাফ স্পেসে জায়গা বের করে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করেন। দুই ফুলব্যাক ওপরে উঠে উইং সচল রাখেন, আর লামিনে ইয়ামালের মতো উইঙ্গাররা ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে সুযোগ তৈরি করেন। আক্রমণে গিয়ে বল হারালে স্পেন সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত প্রেসিং শুরু করে, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নিতে চায়। বল পায়ে না থাকলেও স্পেন সমান ধারালো—প্রতিযোগিতায় সাত ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছে তারা।
কৌশল যতই দৃঢ় হোক, শেষ পর্যন্ত এই ফাইনালের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে একটি জাদুকরি মুহূর্ত। মেসি, ইয়ামাল বা অন্য কারও পায়ে তৈরি হওয়া সেই মাহেন্দ্রক্ষণ হয়তো লিখে দেবে কে বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলবে।




