যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটন ডিসির প্রধান কৌঁসুলি জিনিন পিরোর সমালোচনা করে বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিসৌধের রিফ্লেক্টিং পুল ভাঙচুরের মামলায় অলিম্পিয়ান ডেভিড হার্নকে রক্ষা করার সিদ্ধান্তটি সঠিক হয়নি। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কিছুক্ষণ পরেই পিরোর কার্যালয় জানায়, ওই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এক নারীকে চার্জ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে জাতীয় মলের ওই স্মৃতিসৌধের রিফ্লেক্টিং পুলটি ভাঙচুরের শিকার হয়। এই ঘটনায় হার্নের নাম উঠে এলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। তবে পিরো তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন না করার সিদ্ধান্ত নেন, যা নিয়ে সরব হন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এই ঘটনায় হার্নের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে যথেষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যা আইনের শাসনের প্রতি প্রশ্ন তুলেছে।
পিরোর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তদন্তে পাওয়া নতুন তথ্যের ভিত্তিতে রিফ্লেক্টিং পুলের ক্ষতির সাথে সম্পর্কিত একটি নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ওই নারীর নাম ও বিস্তারিত তথ্য অবশ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তদন্ত এখনও চলমান এবং এ ঘটনায় আরও কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে পিরো নিজেও এক বিবৃতিতে বলেছেন, "মামলা পরিচালনার সময় কোনো রাজনৈতিক চাপে প্রভাবিত হইনি।" তিনি বলেন, "আমার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আইনি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।" তবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, পিরোর এই অবস্থান আগামী দিনে তার চাকরির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, হার্নের আইনজীবী বলেছেন, "তার মক্কেল নির্দোষ এবং এই ঘটনার সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।" তিনি আরও বলেন, "রিফ্লেক্টিং পুলে যে ক্ষতি হয়েছে, তাতে হার্নের কোনো হাত ছিল না বলে আমরা আদালতে প্রমাণ করব।" ঘটনার তদন্তে স্থানীয় পুলিশ ও এফবিআই উভয়ই কাজ করছে বলে জানা গেছে।
রিফ্লেক্টিং পুলটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিসৌধের একটি কেন্দ্রীয় অংশ, যা প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থী দেখতে আসেন। ভাঙচুরের ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। এ ঘটনার পর স্মৃতিসৌধের নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবিও উঠেছে।




