দীর্ঘদিন ধরে উচ্ছেদ ও সহিংসতার শিকার হয়েও ফিলিস্তিনের মানুষের স্বাধীনতার সংগ্রাম কখনো থেমে থাকবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পান্থপথে অবস্থিত দৃকপাঠ ভবনে দৃক পিকচার লাইব্রেরির আয়োজনে এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, কত কষ্ট বা ক্ষতিই হোক না কেন, অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই থেকে পিছিয়ে আসবে না ফিলিস্তিনিরা।
গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যে সমুদ্রপথে যাত্রা, আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটক, হয়রানি এবং কারাবাসের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে শুরু হয়েছে প্রদর্শনীটি। ‘ফ্লোটিলা: বাংলাদেশ সেইলস ফর গাজা’ শীর্ষক এই আয়োজনে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের (এফএফসি) হয়ে অভিযানে অংশগ্রহণকারী তিনজন বাংলাদেশি ও ব্রিটিশ-বাংলাদেশি অ্যাক্টিভিস্টের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। তাঁরা হলেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মোহাম্মদ আলী লিয়াকত এবং জুবায়ের ইসলাম খান। উল্লেখ্য, ইসরায়েলি বাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় তাঁদের নৌযান আটক করে পরে তাঁদের কেৎজিয়েত কারাগারে বন্দী করে রাখে।
অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, উপস্থিত সবার এই সমর্থনই ফিলিস্তিনিদের ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার প্রতি সাধারণ মানুষের অঙ্গীকারের প্রমাণ বহন করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনিরা কখনো ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে যাবে না।
আলোকচিত্রী শহিদুল আলম জানান, এই প্রদর্শনীতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর এবং চলতি বছরের মে মাসে পরিচালিত দুটি অভিযানের চিত্র স্থান পেয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশের সরকার যখন নীরব ছিল, তখন বাংলাদেশের নেতারা সাহসী অবস্থান নিয়েছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমান মিশনটির সমর্থনে প্রথম দিকেই স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসও জোরালো সমর্থন জানিয়েছিলেন। ইসরায়েলি কারাগারেই সহযোদ্ধা লিয়াকতের সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মোহাম্মদ আলী লিয়াকত বলেন, তাঁরা আটক, হয়রানি ও অপমানের শিকার হয়েছেন। এমনকি তাঁর সহযোদ্ধাদের খুব কাছ থেকে প্লাস্টিক বুলেট দিয়ে গুলি করা হয়েছিল। তবে এই কষ্ট ফিলিস্তিনিদের দৈনন্দিন দুর্ভোগের তুলনায় কিছুই নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। অপর ব্রিটিশ-বাংলাদেশি জুবায়ের ইসলাম খান বলেন, এই মিশন তাঁদের জাতীয় পতাকার প্রতিনিধিত্ব করার গভীর অনুভূতি এনে দিয়েছে। সাধারণ মানুষ ইচ্ছা করলে ইতিহাস বদলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিই এই মিশন মনে করিয়ে দেয়।
প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে আগামীকাল শনিবার সন্ধ্যা ছয়টায় দৃকপাঠ ভবনে একটি প্যানেল আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে তিন ফ্লোটিলা অ্যাক্টিভিস্ট তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন। আগামী ২৯ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এই প্রদর্শনী।




