যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী তাদের একমাত্র ফরওয়ার্ড-ডেপ্লয়ড পরমাণু শক্তিচালিত সুপারক্যারিয়ার 'ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন' (CVN-73)-কে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন' (CVN-72)-এর স্থলাভিষিক্ত হবে। আব্রাহাম লিঙ্কন প্রায় ২৬৬ দিন ধরে মোতায়েন রয়েছে, যার মধ্যে বন্দর ভিজিটের সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত। এই পরিস্থিতি মার্কিন নৌবাহিনীর সীমিত সম্পদ এবং দীর্ঘ মিশনে নিয়োজিত নাবিক ও যুদ্ধজাহাজগুলোর ওপর পড়া প্রচণ্ড চাপের বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সক্রিয় যুদ্ধक्षेत्रে দীর্ঘ সময় কাটানোর ফলে নৌসেনাদের মধ্যে চরম অবসাদ এবং মনোবল ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এটি কেবল বড় বিমানবাহী রণতরীর ক্ষেত্রেই নয়, বরং তাদের সাথে থাকা ছোট এসকর্ট জাহাজগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। উদাহরণস্বরূপ, ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড (CVN-78) মোট ৩২৬ দিন মোতায়েন ছিল, যা ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর থেকে যেকোনো পরমাণু শক্তিচালিত রণতরীর জন্য দীর্ঘতম সময়।

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইরিনা সুকারম্যান জানান, রণতরীকে কেবল কৌশলগত সম্পদ হিসেবে দেখলে ভুল হবে; এর পেছনে রয়েছে হাজার হাজার মানুষের কঠোর পরিশ্রম। একটানা মাসের পর মাস সমুদ্রের বুকে থাকা মানে হলো অনিদ্রা, পরিবারের থেকে বিচ্ছিন্নতা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ পিছিয়ে যাওয়া। আব্রাহাম লিঙ্কনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও গুরুতর, কারণ তারা গত নভেম্বর থেকে প্রায়ই শুকনো 땅 বা স্থলের দেখা পায়নি এবং মাত্র দুবার বন্দরে ভিটেছে, যার সময়সীমা ছিল একদিনের কম।

এই সংকট কেবল মানবিক নয়, বরং কৌশলগত। আরক্ষা ইন্টেলিজেন্স ফিউচারের সিইও আরাথি কৃষ্ণন উল্লেখ করেন, ইরান হয়তো মনে করছে তারা ধৈর্য ধরে মার্কিন নৌবাহিনীকে ক্লান্ত করে দিতে পারবে। তেহরান খুব কাছ থেকে মার্কিন রণতরীর রোটেশন পর্যবেক্ষণ করছে। অন্যদিকে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়া বেইজিংয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। চীন মনে করতে পারে যে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে অন্য কাজে ব্যস্ত, যা তাইওয়ান বা ফিলিপাইন সংলগ্ন এলাকায় তাদের আগ্রাসন বা 'গ্রে-জোন' তৎপরতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।

এছাড়া, ইরানি ড্রোন ও মিসাইলের মোকাবিলায় প্রচুর পরিমাণে ইন্টারসেপ্টর এবং টমাহক মিসাইল ব্যবহৃত হয়েছে। এই অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় পূর্ণ করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে, যা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যেকোনো সম্ভাব্য সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতাকে কমিয়ে দিতে পারে। ছোট এসকর্ট জাহাজগুলোর নাবিকদের অবস্থা আরও করুণ, কারণ সেখানে জায়গার অভাব এবং সুযোগ-সুবিধা অত্যন্ত সীমিত, অথচ তাদের সতর্কতাজনিত চাপ অনেক বেশি। সব মিলিয়ে, মার্কিন নৌবাহিনীর এই বর্তমান পরিস্থিতি তাদের বৈশ্বিক প্রস্তুতি এবং কৌশলগত অঙ্গীকারের সামনে বড় প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়েছে।