কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার ইনানী সৈকত সংলগ্ন একটি খোলা জায়গা থেকে পাঁচতারকা হোটেল বে-ওয়াচের কর্মী আবদুল আজিজের (২৭) মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে হোটেলটির স্টাফ কোয়ার্টারের পাশের ফাঁকা জমি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আজিজের দেহে একাধিক জখমের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত আবদুল আজিজ উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া এলাকার রশিদ আহমদের ছেলে। তিনি ওই হোটেলের গরুর খামারের দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। প্রায় এক বছর ধরে তিনি হোটেলটিতে চাকরি করছিলেন। মৃত্যুর আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে কর্মস্থলে ফিরে যান। বুধবার বেলা ১১টার দিকে তাঁর সঙ্গে শেষবারের মতো মোবাইল ফোনে কথা হয় স্ত্রী সায়কা ইয়াছমিনের। এরপর রাত একটার দিকে তিনি জানতে পারেন আজিজের লাশ মাঠে পড়ে আছে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, গতকাল রাত সোয়া ১২টায় হোটেল বে-ওয়াচের স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর পাশের ফাঁকা জমিতে আজিজের মৃতদেহ পড়ে ছিল। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পুলিশী তদন্ত চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মূল রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

নিহতের স্ত্রী সায়কা ইয়াছমিন অভিযোগ করে বলেন, তাঁর স্বামীকে মারধর করে কিংবা শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ মাঠে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবেই আজিজকে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের তিনটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। তাদের নিয়ে এখন কী করব ভেবে পাচ্ছি না।’ পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

উখিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোলতান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আজিজ একজন পরিশ্রমী যুবক ছিলেন। তাঁর এই রহস্যজনক মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। সঠিক তদন্তের স্বার্থে হোটেলের স্টাফ কোয়ার্টারের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। যাতে করে দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়।’

বে-ওয়াচ হোটেলের উপমহাব্যবস্থাপক এনায়েত উল্লাহ ঘটনার বিষয়ে বলেন, নিহত আবদুল আজিজ হোটেলের গরুর খামারের দায়িত্বে ছিলেন এবং তিনি স্থানীয় বাসিন্দা। তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু ঘটেছে, সে বিষয়ে তাঁর কোনো ধারণা নেই বলে জানান তিনি।