বহুজাতিক জুতাপ্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বাটা শু চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) উল্লেখযোগ্য আর্থিক সাফল্য অর্জন করেছে। কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট আয় দাঁড়িয়েছে ৫০ কোটি টাকার কিছু বেশি, যা গত বছরের একই সময়ের ২৭ কোটি টাকা থেকে ৮৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, গত বছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে জুতা ও অন্যান্য পণ্যের বিক্রি বেড়েছে ৫২ কোটি টাকা বা ১০ শতাংশের বেশি, মোট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৫৬৯ কোটি টাকায়।

গতকাল সোমবার কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। আজ মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) আলাদা প্রতিবেদনেও ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। চলতি বছরের এপ্রিল-জুন সময়ে বাটার বিক্রি বেড়েছে ১৮৯ কোটি টাকায়, যা গত বছরের একই সময়ের ১৫৮ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি প্রায় ১০ কোটি টাকা লোকসান করলেও চলতি বছরের একই প্রান্তিকে তারা ১৩ কোটি টাকার বেশি মুনাফা অর্জন করেছে।

বিক্রি বৃদ্ধির চেয়ে মুনাফা কয়েক গুণ বেশি বেড়ে যাওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে পরিচালন ও আর্থিক খরচে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয়কে চিহ্নিত করা হচ্ছে। গত বছরের প্রথম ছয় মাসে পরিচালন খরচ ছিল ১৮২ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের একই সময়ে বিক্রি বাড়ার পরও কমে দাঁড়িয়েছে ১৭৪ কোটি টাকায়। এতে করে কোম্পানিটি ৮ কোটি টাকার বেশি সাশ্রয় করেছে। পাশাপাশি সুদসহ অন্যান্য আর্থিক খরচে সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকা। উৎপাদন খরচ আগের বছরের সমপর্যায়ে ধরে রাখতেও সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব সাশ্রয় সরাসরি মুনাফায় যুক্ত হয়েছে।

বাটা শু এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে বিক্রি ও মুনাফা বাড়ার ক্ষেত্রে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা—এই দুই ধর্মীয় উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে জুতার চাহিদা বৃদ্ধি পায়। একইসঙ্গে ব্যবসায়িক কৌশলের সঠিক বাস্তবায়ন ও পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণও এই অগ্রগতিতে অবদান রেখেছে। মুনাফা বৃদ্ধির খবরে শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আজ মঙ্গলবার লেনদেন শুরুর প্রথম ঘণ্টায় ডিএসইতে বাটার প্রতিটি শেয়ারের দাম সাড়ে ১৪ টাকা বা দেড় শতাংশের বেশি বেড়েছে। বেলা ১১টায় কোম্পানিটির শেয়ারমূল্য ছিল ৯১৩ টাকা। ১৯৮৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ভালো মানের কোম্পানি হিসেবে ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত।