চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি–জুন) দেশীয় মালিকানাধীন সিটি ব্যাংকের মুনাফা প্রথমবারের মতো ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় সোমবার এই অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত হয়। মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছে তথ্য প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির কর–পরবর্তী সমন্বিত মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৫২৭ কোটি টাকায়। গত বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ৩০১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা বেড়েছে ২২৬ কোটি টাকা, যা শতকরা হিসেবে ৭৫ শতাংশেরও বেশি।

মুনাফার এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করেছে। ব্যাংকটির ঋণের সুদ আয় বেড়েছে ১৪১ কোটি টাকা বা ৫ শতাংশের বেশি, যা গত বছরের ২ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা থেকে বেড়ে এ বছর হয়েছে ২ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে আমানতের সুদ বাবদ ব্যয় বেড়েছে ১০৯ কোটি টাকা বা প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ, যা ২ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৫৬২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ সুদ আয়ের বাড়তি অংশ সুদ ব্যয়ের চেয়ে বেশি হওয়ায় নিট আয় বেড়েছে।

আরেকটি বড় অবদান এসেছে সরকারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ থেকে। এই খাত থেকে ব্যাংকটির আয় বেড়েছে ২৫৭ কোটি টাকা বা সাড়ে ১৫ শতাংশ, যা গত বছরের ১ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা থেকে বেড়ে এ বছর হয়েছে ১ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। এছাড়া কমিশন বাবদ আয়ও বেড়েছে। প্রথমার্ধে এই খাতে আয় হয়েছে ৫২৯ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের ৪২৬ কোটি টাকার চেয়ে ১০৩ কোটি টাকা বেশি।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মন্দ মানের ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশনিং বাবদ খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। গত বছরের প্রথমার্ধে ব্যাংকটিকে ৬৫৭ কোটি টাকা প্রভিশনিং করতে হলেও চলতি বছর তা কমে ৪৭৪ কোটি টাকায় নেমেছে, ফলে ১৮৩ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

ব্যাংক–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ব্যবসার এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছর শেষে নতুন রেকর্ড মুনাফা অর্জন সম্ভব। গত বছর শেষে সিটি ব্যাংক ১ হাজার ৩২৪ কোটি টাকার রেকর্ড মুনাফা করেছিল, যা এ বছর প্রথমার্ধেই সোয়া ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

মুনাফা বৃদ্ধির খবরে শেয়ারবাজারে ব্যাংকটির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। মঙ্গলবার ডিএসইতে প্রথম দুই ঘণ্টায় লেনদেনের শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সপ্তম অবস্থানে ছিল সিটি ব্যাংক। এ সময়ে ব্যাংকটির ১৩ কোটি টাকার বেশি শেয়ার লেনদেন হয়েছে এবং প্রতিটি শেয়ারের দাম ২০ পয়সা বেড়ে ৩২ টাকায় দাঁড়িয়েছে।