বর্ষাকালীন স্যাঁতসেঁতে ও আর্দ্র পরিবেশে অন্দরমহলকে সতেজ ও সুবাসিত রাখাটা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এ জন্য বাণিজ্যিক রাসায়নিক এয়ারফ্রেশনারের প্রয়োজন নেই। প্রকৃতির কাছ থেকেই আমরা পেতে পারি চমৎকার সব সমাধান, যা কেবল খরচই বাঁচায় না, বরং স্বাস্থ্যের জন্যও নিরাপদ।
ঘরোয়া এয়ারফ্রেশনার তৈরির ক্ষেত্রে দারুচিনি হতে পারে প্রথম পছন্দ। কিছু দারুচিনির টুকরো শুকনা কড়াইয়ে নেড়ে ব্লেন্ডারে গুঁড়া করে একটি পাত্রে ভরে নিন। পাত্রের ছিদ্রে মশলা সংকট কাটিয়ে মুখ বন্ধ করে ঘরের যে কোনো কোণায় রেখে দিলেই এক ধোঁয়া মিষ্টি গন্ধে পরিবেশ রূপ নেবে।
মালটা এবং লবঙ্গের মিশ্রণও অসাধারণ। একটি ছোট পাত্রে পানি গরম করে তাতে মাল্টার খোসা ও লবঙ্গ ছেড়ে দীর্ঘক্ষণ ফুটিয়ে নিতে হবে। বাড়তি প্রয়োজনে এই সুগন্ধি পানি স্প্রের বোতলে সংরক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে ঘরে ছিঁটিয়েও ব্যবহার করতে পারেন।
লেবু ও পুদিনাপাতার সজীবতা এনে দিতে পারে বিরক্তিকর আর্দ্র ভাব কাটিয়ে। লেবুর টুকরো ও পুদিনাপাতা একসঙ্গে সিদ্ধ করে ঠান্ডা করা মিশ্রণটি ছেঁকে একটি স্প্রের বোতলে সংরক্ষণ করুন। এটি পর্দা, বিছানার চাদর কিংবা সোফার কভারের ওপর ছিটিয়ে দিলে মন ফুরফুরে হয়ে ওঠে।
কফির সুগন্ধ যাঁরা ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য রয়েছে ভিন্ন এক উপায়। একটি ছোট বাটিতে কফি বিনস নিয়ে সামান্য কর্পূর যুক্ত করে বসার ঘরের টেবিলে সাজিয়ে রাখুন। আর চালের মতো গন্ধহীন শস্যও দারুণ কাজ করে। একটি পাতলা কাপড়ে কিছু চাল ও কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল মুড়ে বেঁধে বেডসাইড টেবিল কিংবা ওয়ারড্রোবে রাখলে জামাকাপড়ে লেগে থাকে দীর্ঘস্থায়ী মিষ্টি ঘ্রাণ। এই সহজ পন্থাগুলো অবলম্বন করলেই প্রকৃতির মায়ায় আপনার চারপাশ ভরে থাকবে কাঙ্ক্ষিত সুগন্ধে।




