ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ইনস্টিটিউটে তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত সায়ীদা ইসলাম নিয়মিত ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে চলেছেন। প্রধানত টিকটকেই তাঁর বেশি সক্রিয়তা; ওই মাধ্যমে বর্তমানে প্রায় পঞ্চাশ হাজার অনুসারী তাঁর সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের ভালো লাগা ও নিরন্তর উৎসাহই প্রতিদিন নতুন কিছু উপস্থাপনের প্রেরণা জোগায় তাঁকে।

তাঁর ভিডিওর কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। দেশীয় পোশাক, কৃষ্টি এবং জীবনধারাকে গভীর ভালোবাসার সঙ্গে ক্যামেরাবন্দী করেন তিনি। পাশাপাশি স্বাস্থ্য অর্থনীতির শিক্ষার্থী হিসেবে কিশোরী ও নারী শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য, তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের নানা অভিজ্ঞতা এবং সচেতনতামূলক বিষয়গুলোও ভিডিওতে তুলে আনেন। একজন নারী শিক্ষার্থী হিসেবে এসব বিষয়ের গুরুত্ব তিনি তীব্রভাবে অনুভব করেন; তাই নিজের সামাজিক মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে সেগুলো সবার সামনে উপস্থাপনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

শৈশব কাটিয়েছেন রাঙামাটির পাহাড়, হ্রদ ও সবুজ প্রকৃতির কোলে। ছোটবেলা থেকেই রূপবৈচিত্র্যকে গভীরভাবে অনুধাবনের এক বিশেষ দৃষ্টি তাঁর মধ্যে গড়ে উঠেছিল। পরবর্তীতে উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার জন্য ঢাকায় আসেন তিনি। রাঙামাটির সেই শান্ত পাহাড়ি পরিবেশ থেকে শুরু করে আজকের কোলাহলপূর্ণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস—জীবনযাত্রার এই ভিন্ন অভিজ্ঞতাগুলোই তাঁর কনটেন্টে স্থান পায়।

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, ক্লাসের পড়া ও পরীক্ষার চাপের মধ্যেও কীভাবে এত কিছু সামলানো সম্ভব! স্বাস্থ্য অর্থনীতির মতো জটিল বিষয়ে অধ্যয়নের কারণে তাঁর ওপর পড়াশোনার চাপও যথেষ্ট। তবুও তিনি শখ ও পড়াশোনাকে পৃথক করে দেখেন না। ক্যাম্পাস থেকে হলে আসা-যাওয়ার পথেই অনেক সময় কোনো নতুন ধারণা মাথায় আসে, এবং সুযোগমতো সেগুলো দিয়েই ছোটখাটো কোনো ভিডিও তৈরি করে ফেলেন তিনি।

কনটেন্ট তৈরি করলেও তাঁর ভবিষ্যতের লক্ষ্য বিসিএস। পড়াশোনার মান অক্ষুণ্ণ রেখে কাজ ও স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে চান তিনি। সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ, নারী শিক্ষার্থীদের সমস্যা এবং নিজের দেখা চারপাশের জগৎকে সহজভাবে ফুটিয়ে তোলাই তাঁর এই যাত্রার প্রধান উদ্দেশ্য। উল্লেখ্য, কনটেন্ট তৈরি করে প্রথম যে সম্মানী পেয়েছিলেন, তার পরিমাণ ছিল প্রায় চৌদ্দ থেকে পনেরো হাজার টাকা।