চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে ৪৫, ৪৬ ও ৪৯তম বিসিএসের গেজেট প্রকাশ আটকে থাকার জেরে তীব্র আর্থিক ও মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন হাজারো চাকরিপ্রার্থী। এই অচলাবস্থার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার ধীরগতি। সম্প্রতি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী জানিয়েছেন, আসন্ন আগস্ট মাসের মধ্যেই সব ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, ভেরিফিকেশন কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা ও দপ্তর নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আশ্বাস দেন, চাকরিপ্রার্থীদের এই দুর্ভোগের অবসান আর বিলম্বিত করা হবে না। জানা গেছে, বর্তমানে ৪৫তম সাধারণ বিসিএসের ১,৮০৭ জন, ৪৬তম বিসিএসের ১,৪৫৭ জন এবং ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের ৬৬৮ জন প্রার্থী চূড়ান্ত গেজেটের জন্য অপেক্ষমাণ।

নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি কমিশনের সুপারিশকৃত নথিপত্র জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশের বিশেষ শাখায় পাঠানো হয়। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতার জন্য রিপোর্ট আসতে বিলম্ব হয়। এই প্রশাসনিক জটিলতার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সুপারিশপ্রাপ্ত তরুণদের জীবনে।

অনেক প্রার্থী চাকরির আশায় আগের বেসরকারি চাকরি, টিউশনি বা অন্যান্য উপার্জনের পথ ছেড়ে দিয়েছিলেন। গেজেট প্রকাশে অস্বাভাবিক বিলম্বের কারণে তাদের সঞ্চয় শেষ হয়ে যাওয়ায় চরম অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের সম্মুখীন হয়েছেন। সামাজিকভাবে ‘ক্যাডার’ পরিচিতি পাওয়া গেলেও বাস্তবে তীব্র আর্থিক দুর্দশায় দিনযাপন করতে হচ্ছে তাদের।

এছাড়াও, যথাসময়ে গেজেট না হওয়ায় ৪৭তম বিসিএসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও নিয়োগ আটকে থাকায় অনেক প্রার্থী বাধ্য হয়ে পরবর্তী বিসিএসের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। ফলে একই ব্যক্তি একাধিক বিসিএসের তালিকায় স্থান করে নিচ্ছেন। আগের ব্যাচে যোগদান করলে ৪৭তম বিসিএসের শতাধিক পদ ফাঁকা থেকে যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে আর পূরণ করা সম্ভব হয় না। এতে একই সঙ্গে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকছে এবং নতুন চাকরিপ্রার্থীদের সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সংশ্লিষ্ট সবাই এখন দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ ও গেজেট জারির মাধ্যমে এই দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান চাচ্ছেন।