খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা মেলায় তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৭তম সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মাহবুবুর রহমান জানান, সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে চাকরিচ্যুত করা হবে এবং এই সিদ্ধান্ত দেশের সব পাবলিক-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সমগোত্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবহিত করা হবে। এছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও নিরোধ কেন্দ্রের ২৩ ও ২৪ নম্বর অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সিন্ডিকেট একটি উচ্চপর্যায়ের পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা পেয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়ারানি প্রতিরোধ ও নিরোধ কেন্দ্র সূত্রে প্রকাশ, ২৩ ও ২৪ নম্বর অভিযোগ দুটি বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে। গত জুনের মাঝামািরি দিকে অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়ারানি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন বার্তা পাঠানোর অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তাকে ডিসিপ্লিন প্রধান্যের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে অভিযোগের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়ারানি প্রতিরোধ ও নিরোধ কেন্দ্র।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে এক শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্তমূলক ও অশনীন বার্তা পাঠিয়েছিলেন। ভুক্তভোগীর পক্ষে বার্তার স্ক্রিনশট সংলগ্ন করে একটি লিখিত অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় জমা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে তিনি সাড়া দেননি।
অপরদিকে, অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম ও রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে যৌন হয়ারানি এবং বিজয় ’২৪ হলের এক ক্যানটিনকর্মীর বিরুদ্ধে গোপনে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণের অভিযোগের সুষ্ঠ বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালীন ক্লাস-পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেয়। গত ২৩ জুলাই তারা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনসমূহে তালা ঝুলিয়ে দেয়। ২৬ জুলাই সকালে তালা খুলে দেওয়া হলেও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শিক্ষার্থীরা তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি উপস্থাপন করেছে: ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত ক্যানটিনকর্মী ইমাম হাসানের সর্বোচ্চ শাস্তি ও সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বডির জবাবদিহি নিশ্চিত করা; উভয় অধ্যাপককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা; এবং সম্প্রতি গঠিত ‘স্পন্দন-২৪’ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিল করা।




