সম্প্রতি জাতীয় সংসদের এক অধিবেশনে চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম। জামায়াতে ইসলামীর এই সাংসদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন স্পষ্টভাবে জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কোনো পরীক্ষার্থী যদি পরীক্ষায় অংশ নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের জন্য পুনঃপরীক্ষা আয়োজনের পূর্ণ প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

দেশব্যাপী সব পরীক্ষাকেন্দ্র বর্তমানে বর্ষা মৌসুমের বিশেষ নজরদারির আওতায় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো কেন্দ্রে বন্যার পানি প্রবেশ করলে স্থানীয় প্রশাসনকে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীদের কোনো অসুবিধা না হয়। এপর্যন্ত কুমিল্লা সরকারি কলেজেই বড় ধরনের জটিলতা দেখা দিয়েছে, যেখানে কলেজ প্রাঙ্গণ প্লাবিত হওয়ায় পরীক্ষা আয়োজনে কিছুটা বেগ পেতে হয়। তবে দ্রুত কেন্দ্র স্থানান্তরের মাধ্যমে সেই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, সেখানে ইতিমধ্যেই পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা চালু রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন পড়লে অন্যান্য বোর্ডেও একই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে। প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে কেউ পরীক্ষা দিতে না পারলেও তা পর্যালোচনা করে পুনঃপরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে বলে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন।

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব নিতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে পুনর্ব্যক্ত করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব শিক্ষার্থীই আগামী দিনের ভিত্তি, তাই কোনো অবস্থাতেই তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে দেওয়া হবে না। দুর্যোগকালেও যাতে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের চেয়েও বেশি উদ্বিগ্ন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।