নরসিংদীর রায়পুরায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইসমাইল হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত পৌনে নয়টার দিকে হাসপাতাল-সংলগ্ন তুলাতুলি মোড় এলাকা থেকে ৫০টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে এক ব্যক্তি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে ইয়াবা বহন করে রায়পুরার দিকে আসছেন। এ খবরে তুলাতুলি মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি শুরু হয়। এক পর্যায়ে একটি অটোরিকশার একমাত্র যাত্রী ইসমাইল হোসেনের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক শফিউল্লাহ শিকদার গণমাধ্যমকে জানান, আটকের পর ইসমাইল নিজের পরিচয় গোপন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে নেওয়ার পর তিনি চিকিৎসক পরিচয় দেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর ইসমাইলের স্ত্রী ও সহকর্মীরা থানায় উপস্থিত হন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গৃহবন্দী ইসমাইলের স্ত্রী তাদের কাছে অভিযোগ করেন যে, মাদকাসক্তির কারণে তাদের সংসারে বিরামহীন অশান্তি চলছিল। গত কয়েক বছরে বহু চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব) পাঠানো সম্ভব হয়নি।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান নিশ্চিত করেন, গ্রেপ্তারের রাতেই অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরের মধ্যে তাকে নরসিংদী জেলা আদালতে প্রেরণ করা হবে।
প্রায় তিন বছর আগে ইসমাইল হোসেন রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দিয়েছিলেন। গত ৯ মাস ধরে তিনি হাসপাতালটির আরএমও পদে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রীও একজন চিকিৎসক ও একই হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের দাবি, এই চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ইয়াবা সেবন ও ছোট আকারের বেচাকেনা করতেন, যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অজানা ছিল না।




