মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ২০০টি ফলভর্তি কমলাগাছ কেটে ফেলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের এই কমিটি গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন সিলেট বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. আবদুর রহমান এবং মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোসা. শাহীনা আক্তার।
তদন্তের অংশ হিসেবে কমিটি আদমপুর বিটের কালিঞ্জি এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য আলীম উল্লা ও তার পরিবারের লোকজন এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে। কমিটির প্রধান আশরাফুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত সমন্বয় করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে দ্রুত সরকারের কাছে দাখিল করা হবে। এরপর সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ধরেননি। কমলগঞ্জের ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিভাগীয় কমিশনার ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে সম্ভবত যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে সরাসরি উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি। তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে উপজেলা প্রশাসন পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের অধীন আদমপুর বিটের কালিঞ্জি এলাকায় উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে প্রায় পাঁচ একর সংরক্ষিত বনভূমি দখলমুক্ত করা হয়। বন বিভাগের দাবি, সেখানে অবৈধভাবে কমলার বাগান, একটি পুকুর এবং বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। অভিযান চালিয়ে সেগুলো অপসারণ করে জমি পুনরায় বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। তবে এই অভিযানে প্রায় ১ হাজার ২০০টি ফল ধরা কমলাগাছ কেটে ফেলার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য আলীম উল্লা দাবি করেছেন, আট বছরের শ্রম ও ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা বাগানটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগও তুলেছেন তারা। পরিবারটির ভাষ্য, চাঁদা না দেওয়ায় ফল তোলার আগেই বাগান কেটে ফেলা হয়েছে। অন্যদিকে বন বিভাগ চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, সংরক্ষিত বনভূমিতে ব্যক্তিগতভাবে কমলা, মাল্টা, আনারস বা অন্য কোনো বাণিজ্যিক বাগান করা সম্পূর্ণ বেআইনি। বনভূমি দখলমুক্ত করার নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।
তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছে। আলীম উল্লার ভগ্নিপতি সলিম উল্লা জানান, কর্মকর্তারা এসে তাদের কাছ থেকে সব ঘটনা শুনেছেন এবং শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিয়াজ মাহমুদ, কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সার্কেলের অতিরিক্তসহ বন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




