মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত মার্চ-এপ্রিল মাসে ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গিয়েছিল। এখন সেই একই চিত্র ফিরে এসেছে রাজধানীর সিএনজি স্টেশনগুলোতে। এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটির কারণে দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে নগরজীবনে। কোথাও রান্নার চুলা জ্বলছে না, আবার কোথাও থমকে গেছে শিল্পকারখানার উৎপাদন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন সিএনজিচালিত যানবাহনের চালকেরা।
রাজধানীর রামপুরা এলাকায় একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। চাপ কম থাকায় সরবরাহ চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। স্টেশনের বাইরে সড়কে সিএনজিচালিত যানবাহনের লাইন কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। একই চিত্র মতিঝিল এলাকার স্টেশনগুলোতেও। সেখানেও গ্যাসের অপেক্ষায় গাড়িগুলো সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে।
টিটিপাড়া এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও গণপরিবহন—সবাইকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে হাঁপিয়ে উঠেছেন চালকেরা। ভোর থেকে শুরু হওয়া এই লাইন দুপুর ১২টার মধ্যে বাসাবো এলাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। দীর্ঘ লাইনের দৈর্ঘ্যই সংকটের গভীরতা বোঝাচ্ছে। এদিকে মুগদা এলাকায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ার অপেক্ষায় চালকদের অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। গ্যাস না থাকায় সায়েদাবাদ এলাকায় এক চালককে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ঠেলে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রান্নার গ্যাস না পাওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রাজধানীর প্রায় প্রতিটি সিএনজি স্টেশনের চিত্র এখন একই রকম—সর্বত্রই দীর্ঘ লাইন ও চরম ভোগান্তি।




