মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশৃঙ্খল সেনা প্রত্যাহারের পাঁচ বছর পূর্ণ হলো এ মাসে। একই সঙ্গে তালেবানের ক্ষমতায় ফেরার অর্ধযুগও পার হলো এই সপ্তাহান্তে। এই প্রেক্ষাপটে একজন আফগান আইনজীবী তালেবানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
দীর্ঘ যুদ্ধবিগ্রহের পর ২০২১ সালে মার্কিন বাহিনী যখন আফগানিস্তান ত্যাগ করে, তখন দেশটির ক্ষমতা দখল করে নেয় তালেবান। সেই থেকে দেশটির মানুষের জীবনযাত্রায় নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে, সংবাদমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে।
এই আইনজীবী, যিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থাকতে চান, তিনি আন্তর্জাতিক আদালতে তালেবান নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য প্রমাণ সংগ্রহ করছেন। তার মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা তালেবানকে আরও ক্ষমতাধর করেছে। তিনি বলেন, "তালেবানকে জবাবদিহি করতে না পারলে আফগানিস্তানের জনগণের জন্য ন্যায়বিচার কখনোই আসবে না।"
তার এই প্রচেষ্টা শুধু বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি আফগান শরণার্থীদের জন্য আইনি সহায়তা প্রদান করছেন এবং তালেবানের নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের সাক্ষ্য সংগ্রহ করছেন। এই সাক্ষ্যগুলো ভবিষ্যতে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। তালেবান শাসনের অধীনে আইনজীবীদের কাজ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক আইনজীবীকে হুমকির মুখে দেশ ছাড়তে হয়েছে। তবুও এই আইনজীবী তার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি মনে করেন, সময় যতই যাক না কেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, তালেবানের বিরুদ্ধে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এই আইনজীবীর প্রচেষ্টা সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি আশার আলো হিসেবে দেখা হচ্ছে।




