মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধজাহাজ অংশ নিচ্ছে। খবর অনুযায়ী, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন জাহাজটি এই অঞ্চলে ২৬০ দিনের বেশি সময় ধরে মোতায়েন রয়েছে। এই দীর্ঘ মিশনের পরিপ্রেক্ষিতে জাহাজটির ক্রুদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশিত হওয়ার পরই নতুন একটি জাহাজ সেখানে পাঠানোর খবর সামনে এল।
দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রে অবস্থান করার ফলে নাবিকদের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়, তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের স্থলাভিষিক্ত হতে আরেকটি জাহাজ রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ মিশনে থাকা জাহাজ ও তার ক্রুদের জন্য এ ধরনের রদবদল একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, তবে মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের খবর এই সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-বিরোধী অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের এই বিমানবাহী রণতরীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ২৬০ দিনের বেশি সময় ধরে এই মিশনে থাকা জাহাজটির কার্যক্রম অত্যন্ত ক্লান্তিকর বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘ এই সময়ে জাহাজটির ক্রুরা কোনো বিরতি ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছেন, যা তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এখন পর্যন্ত এই প্রতিস্থাপনের নির্দিষ্ট সময়সূচি বা জাহাজটির নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, প্রক্রিয়াটি ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে এবং খুব শীঘ্রই নতুন জাহাজটি মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে নজর কেড়েছে, কারণ এই অঞ্চলে উত্তেজনা এখনো বিরাজ করছে।
এই দীর্ঘ মিশনের সময় জাহাজটি ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে জানা যায়। বিশেষ করে গত কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করা হয়েছে। এই অবস্থায় ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের প্রত্যাহার একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও কর্মকর্তারা বলছেন, এটি একটি নিয়মিত রোটেশনের অংশ।
জাহাজটির ক্রুদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তা উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২৬০ দিনেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে থাকা এই নাবিকদের জন্য এটি একটি চরম চাপের সময়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এত দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে থাকা যে কারও ওপরই গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে দীর্ঘ মিশনে থাকা সৈনিকদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কথা প্রকাশ পেয়েছে।
নতুন জাহাজটি কবে নাগাদ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের স্থান নেবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে এই প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।




