যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) তাদের কর্মকর্তাদের জন্য উচ্চপ্রযুক্তির বৈদ্যু বৈদ্যুতিক শক গ্লাভস বা দস্তানা সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি-র প্রকাশিত নথিপত্র অনুযায়ী, এই নতুন প্রযুক্তির সরঞ্জাম ক্রয়ে ব্যয় হতে পারে ২০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত। এই বিশেষ দস্তানাগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে 'জি.এল.ও.ভি.ই.' (G.L.O.V.E. - Generated Low Output Voltage Emitter)।

এই প্রযুক্তির ব্যবহার ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে। নথিপত্রে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের মে মাসে নেব্রাস্কার ওমাহা পুলিশ বিভাগ তাদের পাবলিক স্কুলগুলোতে নিয়োজিত রিসোর্স অফিসারদের জন্য ৪০টি ইউনিট কিনতে ৬৫,৯২৪ ডলার বরাদ্দ করেছিল। পুলিশ বিভাগের দাবি, পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং সরাসরি বলপ্রয়োগের বিকল্প হিসেবে এই দস্তানাগুলো ব্যবহার করা হবে। তবে ওমাহা পুলিশ বা স্কুল কর্তৃপক্ষ এই দস্তানা ব্যবহারের নির্দিষ্ট কারণ বা প্রশিক্ষণ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

এনপিআর-এর এক বিশ্লেষণে জানা গেছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি অঙ্গরাজ্যের ৫০টিরও বেশি পুলিশ বিভাগ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এমন এক সময়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো যখন আইসিই-সহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অত্যধিক বলপ্রয়োগের বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। কেনটাকি ভিত্তিক 'কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস' নামক একটি প্রতিষ্ঠান এই দস্তানাগুলো তৈরি করে, যারা একে 'কন্ডাক্টিভ ডিস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডি-এস্কেলেশন ডিভাইস' হিসেবে অভিহিত করেছে।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই গ্লাভসগুলো ৩২৪ থেকে ৩৬২ ভোল্টের শক প্রদান করতে পারে, যার সর্বোচ্চ সীমা ৩৮০ ভোল্ট। যদিও এটি সাধারণ টেজারের (যা ১২০০-১৫০০ ভোল্ট হতে পারে) তুলনায় কম শক্তিশালী, তবুও এর প্রভাব অত্যন্ত তীব্র। একজন প্রাক্তন নেভি সিল সদস্যের পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই গ্লাভস দিয়ে ধরলে তা সরাসরি স্নায়ুতে আঘাত করে এবং অসহ্য যন্ত্রণার সৃষ্টি করে। সাধারণ দস্তানার মতো দেখতে এই ডিভাইসে থাকা একটি বোতাম চাপলে হাতের তালুর ইলেকট্রোড প্যাডগুলো সক্রিয় হয় এবং ত্বকের সংস্পর্শে আসা মাত্রই শক দেয়।

আইসিই মূলত তাদের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশন এবং এনফোর্সমেন্ট রিমুভাল অপারেশনস (ERO)-এর অধীনে গ্রেপ্তার, আটক এবং বহিষ্কার প্রক্রিয়ায় এই সরঞ্জামগুলো ব্যবহার করতে চায়। ২০২৬ অর্থ বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে এই চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে এবং ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (ACLU)-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের ১২০০টি ঘটনার এক-তৃতীয়াংশের বেশিতে কর্মকর্তাদের দ্বারা অত্যধিক বলপ্রয়োগ বা শিশুদের প্রতি দুর্ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এই বিতর্কের মুখে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS)-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, অপরাধী অবৈধ অভিবাসীদের নিরাপদভাবে গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার করার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে আইসিই প্রতিনিয়ত তাদের প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন করে। তাদের দাবি, প্রতিটি সিদ্ধান্ত আইনগত মানদণ্ড এবং নীতিমালার সাথে সংগতি রেখে নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ডিভাইসগুলো বৃদ্ধ, ছোট শিশু, গর্ভবতী নারী বা শারীরিক ও মানসিক অসুস্থ ব্যক্তিদের ওপর ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রস্তুতকারক কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী, এই ডিভাইস ব্যবহারের জন্য কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট কোর্স সম্পন্ন করতে হয় এবং প্রতি দুই বছর অন্তর পুনরায় সনদ নিতে হয়।