ছয় বছরের মার্কিন বসবাস কাটিয়ে এবার যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্স। একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের বরাতে জানা যাচ্ছে, প্রিন্স হ্যারি ও মেগান চলতি বছরই ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করতে পারেন। দ্য টেলিগ্রাফের দাবি, ইতিমধ্যে তাদের সন্তানদের ব্রিটিশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো হয়েছে, যা এই প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই ফিরে আসাকে রাজকীয় দায়িত্বে পুনরায় যোগদানের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না। বিবিসির স্পষ্ট ভাষ্য, ২০২০ সালে পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষার তাগিদে এবং মেগানের প্রতি সংবাদমাধ্যমের অবিরাম নজরদারি ও চাপ থেকে মুক্তি পেতে তারা কর্মরত রাজপরিবারের ভূমিকা থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন; সেই অবস্থানে আজও কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং তেমন কোনো ইচ্ছাও প্রকাশ করা হয়নি।

রাজা তৃতীয় চার্লস এই পরিকল্পনার বিষয়ে গত সপ্তাহান্তের পূর্বে কোনো ধারণা পাননি বলে বিবিসি আরও জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করার পর থেকে হ্যারি ও মেগানের সঙ্গে রাজপরিবারের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে উত্তেজনাপূর্ণ ও জটিল হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজার সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎকে এই দূরত্ব কমানোর এবং সম্পর্কের বরফ গলানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যদিও তা এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো পুনর্মিলনের ঘোষণা নয়।

ক্যালিফোর্নিয়ার Santa Barbara County-র সমৃদ্ধ আবাসিক এলাকা Montecito-তেই এখন পর্যন্ত তাদের প্রধান আবাসস্থল। ২০২০ সালে ১ কোটি ৪৮ লাখ ডলার ব্যয়ে কেনা বিলাসবহুল বাড়িটি তাদের মার্কিন জীবনযাপনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, এমনটি উল্লেখ করেছে হার্পার্স বাজার। গত গ্রীষ্মে যুক্তরাজ্যে তাদের যৌথ সফর ছিল ২০২২ সালের পর প্রথম; সেবারই প্রয়াত হয়েছিলেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। হ্যারি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগই তার দীর্ঘ অনুপস্থিতির পেছনের বড় কারণ। গত বছর তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে নিজের ও পরিবারের জন্য উচ্চতর নিরাপত্তা স্তর চাওয়ার আইনি আবেদন করেছিলেন, কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জে তিনি পরাজিত হন। রাজকীয় দায়িত্ব ত্যাগের পর ২০২০ সালেই তার নিরাপত্তা স্তর কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা পরবর্তীকালে আইনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

রাজপরিবারের সঙ্গে এই দূরত্বের মূলে কাজ করেছে সংবাদমাধ্যমের অনুপ্রবেশ, পারিবারিক বিভেদ এবং যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান বর্ণবাদ—এমন অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে উঠে আসছে। রাজকীয় বেতন ও সুযোগ-সুবিধা থেকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর হ্যারি ও মেগান গণমাধ্যম, বিনোদন শিল্প, প্রকাশনা এবং বক্তৃতার মাধ্যমে আয় করছেন। পাশাপাশি প্রিন্স হ্যারির উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদ এবং মেগানের অভিনয় জীবনের অবশিষ্ট আয়ও তাদের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে। নিরাপত্তা হ্রাস-সংক্রান্ত আপিল হারানোর পর রাজপরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন হ্যারি, ফোর্বসের একটি প্রতিবেদনে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায়; যদিও বাস্তবিক পদক্ষেপের বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।