রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সমাপনী বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন। ‘আত্মোপলব্ধি ও আত্মপর্যালোচনায় অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দীপ্ত শপথ’ শীর্ষক এই সভায় তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে নানা প্রসঙ্গে মুখ খোলেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের অর্জন প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় সবার কথা শোনার ও মত প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যাকে তিনি গণতন্ত্রের চর্চা বলে মনে করেন। তবে এই অর্জনকে আরও সুসংহত করার ওপর জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক সংস্কৃতি গঠনে সবাইকে সক্রিয় থাকতে হবে।
সম্প্রতি দেশের নানা প্রান্তে সাদা কাপড়ে কালেমা লেখা পতাকা দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, যা দেশবিরোধী। এই পতাকা ব্যবহার করে কিছুদিন আগে বোমা বিস্ফোরণ ও মিছিলের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলেও জঙ্গি নাটক সাজানো হতো, যাতে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে জঙ্গিবাদের উত্থান দেখিয়ে নিজের সরকারের অপশাসনকে জায়েজ করা যায়। এখন আবারও শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরবেন বলে ঘোষণা দিয়ে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। আসাদুজ্জামান বলেন, এই পতাকার মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ ও সরকারকে চাপে রাখার চক্রান্ত চলছে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সাম্প্রতিক ঘোষণা প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, তিনি মিথ্যা বলছেন। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনার হাতে রক্তের দাগ লেগেছে, হত্যা ও অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে। তাই তিনি আর বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন না। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনা নেই এবং বাংলাদেশের জনগণ ও রাজনীতি তাকে আর কখনোই গ্রহণ করবে না। তবে শুধু নিশ্চিত থাকলেই হবে না, জুলাইয়ের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
‘ফ্যাসিবাদ শুধু আওয়ামী লীগ বা বাকশালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি লক্ষণ বা সিনড্রোম’— মন্তব্য করে আসাদুজ্জামান বলেন, এর বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ ও সক্রিয় থাকতে হবে। তিনি শেখ হাসিনার শাসনামলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আমলাতন্ত্র পুনর্গঠন এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি নতুন করে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
t্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ষড়যন্ত্র’ করে ১১-দলীয় ঐক্যকে হারানো হয়েছে বলে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের অভিযোগ প্রসঙ্গেও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি জামায়াতের আমিরের এ বক্তব্যকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, শেখ হাসিনাও নির্বাচনে হারার সময় একই ধরনের অভিযোগ করতেন।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু সভায় সভাপতিত্ব করেন। এ সময় আরও বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম প্রমুখ।




