ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা পুনর্বহাল করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করে। আদালত রুল অ্যাবসলিউট ঘোষণা করায় সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিলের নির্বাচন কমিশনের আদেশ বেআইনি বলে গণ্য হয়েছে। ফলে তাঁর নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশ ও শপথ গ্রহণে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম।
তবে হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করার ইঙ্গিত দিয়েছেন একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিনের আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন সারোয়ার আলমগীর। কিন্তু তাঁর ফলাফল প্রকাশ সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত ছিল। এর আগে গত ২ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছিলেন। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জামায়াতের প্রার্থী ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। ইসি ১৮ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বাতিল করে সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করে।
প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন সারোয়ার আলমগীর। প্রাথমিক শুনানি শেষে ২৭ জানুয়ারি রুল জারি করে তাঁকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও 'ধানের শীষ' প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। জামায়াতের প্রার্থী এই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে জানায়, সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে জয়ী হলে তাঁর ফলাফল প্রকাশ চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। নিয়মিত আপিল দায়ের করেন জামায়াতের প্রার্থী ৩১ মার্চ। শুনানি শেষে ১৬ জুন আপিল বিভাগ দ্রুত রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয় এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে তা নিষ্পত্তির কথা বলে।
আপিল বিভাগের আদেশের পর রিটটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য ২১ জুন হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে। ওই দিন শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়। ধারাবাহিকভাবে ২ জুলাই শুনানি শেষ করে আজ রুল অ্যাবসলিউট ঘোষণা করে রায় দেন আদালত। রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম ও মো. আনোয়ার হোসেন। জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী ও আবদুল্লাহ সাদিক। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. রাজু মিয়া।




